Breaking News
Home >> Breaking News >> নদিয়ার পলাশীপাড়ায় চাঁদা তুলে হিন্দু বৃদ্ধের সৎকারে সামিল মুসলিমরাও, গড়ল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির

নদিয়ার পলাশীপাড়ায় চাঁদা তুলে হিন্দু বৃদ্ধের সৎকারে সামিল মুসলিমরাও, গড়ল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির

পার্থ দাস বৈরাগ্য, স্টিং নিউজ করেসপন্ডেন্ট, নদিয়া: শনিবার পলাশীপাড়া থানার ধাওয়া পাড়ায় এক হিন্দু বৃদ্ধের মৃত্যুতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির দেখল এলাকার বাসিন্দারা।বিষ্ণুপদ বিশ্বাস (৮৬) ছিলেন সমাজসেবী, স্বাধীনতা সংগ্রামী ও কমিউনিস্ট আদর্শে বিশ্বাসী। তিনি বিয়ে করেন নি।

তাঁর চলার ক্ষমতা হারিয়ে যাওয়ার পর
তিনি ধাওয়াপাড়ার রওসন আলি শেখের বাড়ি থাকতেন বিগত প্রায় ২৫ বছর। সেখানেই
তিনি এদিন বিকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এদিন বিষ্ণুপদ বাবু মারা যাওয়ার খবর পাওয়ার পর গ্রামের মসজিদ থেকে মাইকে সকলকে সাহায্যের জন্য এবং হিন্দুদের এগিয়ে এসে তাঁর সৎকাজ করার জন্য আবেদন জানানো হয়। শুধু মাইকে না হিন্দুদের কাছে মসজিদ থেকে লোক পাঠানো হয় ।

এই খবর শোনার পর গ্রামের উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেরা চাঁদা তোলা শুরু করে। গ্রামের মানুষ সকলে বসে ঠিক করে যে যেহেতু বিষ্ণুপদ বাবু হিন্দু ছিলেন তাই তাঁর সৎকাজ হিন্দু মতে হবে। সেই মত গ্রামের সকলে মিলে চাঁদা তুলে বিষ্ণুপদ বাবুর মৃতদেহ নিয়ে পলাশী গঙ্গার শ্মশান ঘাটে নিয়ে যান। তাঁর শেষ যাত্রার সঙ্গী হন গ্রামের উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ।

রওসন আলি শেখ বলেন, উনি আজীবন এই
জাতপাতের বিরোধিতা করে এসেছেন। আজ তাঁর মৃত্যুর পরও সেটাই থাকল। তাঁর এই
মৃত্যুর পর গ্রামের সব সম্প্রদায়ের মানুষ এগিয়ে এসেছে তাঁর সৎকাজে অংশ নিতে। একই কথা বলেন গ্রামের বাসিন্দা খোদাবক্স শেখ। গ্রামের বাসিন্দা ও শ্মশান যাত্রী সুখেন বিশ্বাস, সুব্রত বর্মণেরা বলেন, বিষ্ণুপদ বাবু মারা
গিয়েছেন এই খবর গ্রামের মসজিদ থেকে প্রচার করা হয়। তাঁর সাথে আমাদের বাড়িতে লোক পাঠানো হয়। সেই খবর শুনে আমরা গ্রামের সবাই মিলে চাঁদা তুলতে শুরু করি। তাঁর মৃতদেহের সৎকাজ কিভাবে হবে সেই নিয়ে সকলে মিলে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত হয় যে বিষ্ণুপদ বাবু যেহেতু হিন্দু তাঁর সৎকাজ হবে হিন্দু মতে।

সেই মত আমরা গ্রামের উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ তাঁর মৃতদেহ নিয়ে পলাশীর তেজনগর শ্মশান ঘাটে নিয়ে যাচ্ছি। আমাদের এখানে কোন বিভেদ নেই তা আরেকবার প্রমান হল।

এছাড়াও চেক করুন

জমিতে জল দেওয়া নিয়ে বিবাদের জের, আক্রান্ত মা ও ছেলে

মনিরুল হক, কোচবিহারঃ চাষের জমিতে জল দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে বিবাদ তুফানগঞ্জে। আজ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.