Breaking News
Home >> Breaking News >> আগামী ১৯শে জানুয়ারি ব্রিগেড থেকে “বিজেপি ভারত ছাড়ো” ডাক দিতে চলেছে মমতা সহ ভারতের সব বিজেপি বিরোধী নেতৃত্ব

আগামী ১৯শে জানুয়ারি ব্রিগেড থেকে “বিজেপি ভারত ছাড়ো” ডাক দিতে চলেছে মমতা সহ ভারতের সব বিজেপি বিরোধী নেতৃত্ব

সৈকত গাঙ্গুলী, ব্যারাকপুর: উত্তর ২৪ পরগণার পানিহাটি নেতাজি সঙ্ঘের মাঠে ১৯শে জানুয়ারির ব্রিগেড সমাবেশের প্রচার সমাবেশে এসে সাংসদ তথা যুব তৃণমূল কংগ্রেস নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন।

আগামী ১৯শে জানুয়ারির ব্রিগেড সম্বন্ধে বলতে গিয়ে সাংসদ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ব্রিগেডের ডাক দিয়েছেন, তাতে শুধুমাত্র তৃণমূলের রাজ্য স্তরের কিংবা তৃণমূলের কেন্দ্রীয় স্তরের নেতারাই থাকবেন তাই নয়। ভারতবর্ষের একাধিক মুখ্যমন্ত্রী এবং দেশের জাতীয় সংসদীয় ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ নেতারাও থাকবেন। তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করার জন্য আসবেন।”

আগামী ১৯ শে জানুয়ারি তৃণমূলের ডাকা ব্রিগেড সমাবেশে আসার কথা আছে, উত্তরপ্রদেশের সমাজবাদী পার্টির নেতা মুলায়ম সিং যাদব, বিহারের আরজেডির লালু প্রসাদ যাদব, ডিএমকের নেতা স্তালিন, আপের অরবিন্দ কেজরীওয়াল ,চন্দ্রবাবু নাইডু প্রমুখ। সকলেই কথা দিয়েছেন ব্রিগেড সমাবেশে আসবেন ।

সেই সমাবেশ থেকেই সবাই বিজেপিকে ভারত ছাড়োর ডাকটা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। যেভাবে চৌত্রিশ বছরে জগদ্দল পাথরটাকে তৃণমূল বাংলা ছাড়া করেছে, সেই ভাবে সাম্প্রদায়িক বিজেপিকে আমরা ভারত ছাড়া করব বলে এদিনের সভায় দাবি করেন অভিষেক। এই জন্য আমরা সবাই ব্রিগেডে যাবো এবং ব্রিগেড ভরিয়ে দেবো । এর জন্য এই জেলা থেকে দশ লক্ষ মানুষ যাবে।

বিজেপির রথযাত্রাকে আক্রমণ করতে গিয়ে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কোথা থেকে একটা বাস ভাড়া করে এনেছে। উত্তরপ্রদেশ থেকে না দিল্লি থেকে, সেটা নাকি রথ। এর থেকে হাস্যকর আর কিছু হতে পারে না। কেন্দ্রীয় সরকারের আচ্ছে দিনের মতো ওটা দেখিয়ে বলছে এটা রথ। এটা কোন রথ আমি দিলীপ বাবুদের প্রশ্ন করতে চাই। আমরা তো সাধারণত জগন্নাথ দেব, সুভদ্রা, বলরামের রথ দেখেছি শ্রীকৃষ্ণের রথ দেখেছি। আমরা মদনমোহনের রথ জানি, চৈতন্যের রথ জানি। এটা কোন রথ। যে ঈশ্বরের রথে বিজেপির মতো দল ওঠে, কুলাঙ্গারর ওঠে যারা সাম্প্রদায়িকতা দিয়ে বাংলাকে ভাগ করতে চায় তারা রথে উড়বে ? এটা ভারতবর্ষের প্রথম রথ, এটা হাস্যকর যেখানে ফুর্তি করা যাবে স্নান করা যাবে এমনকি মলমূত্র ত্যাগ করা যাবে। আমি প্রশ্ন করতে চাই তাদের।
আবার এখন রথ নামটা পাল্টে দিয়ে গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা। যখন গণতন্ত্র বিপন্ন ছিল তখন কোথায় ছিলেন দিলীপবাবুরা। যখন সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম, ধানতলা, বানতলা হয়েছিল, তখন কোথায় ছিলেন রাহুলবাবু , দিলীপবাবু ,অমিত শাহ, নরেন্দ্র মোদীরা ?
এটাকে রথযাত্রা বলা যাবে না, এটা রাবণ যাত্রা। এটাকে রথযাত্রা বললে রথ কথাটাকে কলুষিত করা হবে। এটা হচ্ছে রাবণ যাত্রা কারণ রাবণ যেভাবে ধ্বংসের কাজ করত এরাও সেভাবে ধ্বংসের কাজ করছে।”
দিলীপ ঘোষকে কটাক্ষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যারা বলেছিল রথের চাকায় গুড়িয়ে যাবে, মেরে দেবো, কেটে দেবো সরিয়ে দেব, হাঁটিয়ে দেবো, তাদের কি কোন পরিস্থিতি পরিণতি হয়েছে, তা ভারতবর্ষের মানুষ চাক্ষুষ করেছে। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচন ছত্তীসগঢ়, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ সেখানে মোদী ঝড় শেষ। সেখানে যে গরুর নামে রাজনীতি করেছে, ধর্মের নামে রাজনীতি করেছে, বিভাজনের নামে রাজনীতি করেছে, তারাই শেষ। আগে সিপিএম বলত ইনকিলাব জিন্দাবাদ, আমরা খাবো তোমরা বাদ। আর এরা বলে জয় শ্রী রাম, মানুষের মাথার নেই কোনও দাম। জয় শ্রীরাম গ্যাসের হাজার টাকা দাম।”

যুব নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে অভিষেক বলেন,
“আমি তো ফেব্রুয়ারি মাসে ছাত্র যুব সম্মেলনে বলেছিলাম, দুই হাজার উনিশ বিজেপি ফিনিশ। কিন্তু এখন যা পরিস্থিতি দেখছি দুই হাজার আঠারোতেই অমিত শার বিজেপি ভোকাট্টা হয়ে গেছে উনিশ তো আসেইনি এখনও পনেরো দিন বাকি আছে।”

বিজেপিকে আক্রমণ করে মুকুল পুত্র শুভ্রাংশুকে মঞ্চে নিয়ে যুব নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এমনিতেই তোমাদের রাহুর এবং শনির দশা চলছিল তার উপর বাংলায় একটা গদ্দার ও কুলাঙ্গারকে তোমরা দলে নিয়েছ। সেই রাহুল আর শনির দশার সাথে কেতুর দশাও সংযোজিত হয়েছে।”

ত্রিপুরার ভোট নিয়ে কটাক্ষ করে সাংসদ জানান, “সত্তর শতাংশ পঞ্চায়েতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজেপি জিতেছে। এরা আবার গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা নিয়ে বলে।” বিজেপিকে আরও আক্রমণ করে বলেন, “গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা না করে বিজেপি বাঁচাও যাত্রা এ বার করতে হবে।”
দিলীপ ঘোষের কুরুচিপূর্ণ কথা কথা নিয়েও আক্রমণ করেন এই তরুণ সাংসদ। তিনি বলেন, “দিলীপ ঘোষ বলেছেন পুলিশকে পেটাও, তৃণমূল কর্মীদেরকে পেটাও। ক্ষমতায় আসার পর দেখে নেবো।” আরে আগে তো কোথায় ক্ষমতায় আসুখ। একটা পঞ্চায়েত দখল করে দেখাক। তারপর বিধানসভা লোকসভার কথা তো অনেক পরে ভাবা যাবে।”

এদিনের মঞ্চ থেকে বিজেপির বাইশটি লোকসভা কেন্দ্র দখল এবং পরবর্তী সময় সেটা পিছিয়ে আঠারোটা লোকসভা কেন্দ্র দখলের চ্যালেঞ্জ নিয়ে অমিত শাহ ও নরেন্দ্র মোদীকে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার পাঁচটি লোকসভা আসনের মধ্যে যে কোনও একটিতে লড়তে চ্যালেঞ্জ জানান এই তরুণ সাংসদ। এই সভা মঞ্চ থেকে আরএসএস কেও আক্রমণ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এ দিনের সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়,জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, ইন্দ্রনীল সেন ,ব্রাত্য বসু, নির্মল ঘোষ, তাপস রায়, সৌগত রায় ,কাকলি ঘোষ দস্তিদার, দীনেশ ত্রিবেদী,মমতাবালা ঠাকুর , পার্থ ভৌমিক শীলভদ্র দত,্ত , শুভ্রাংশু রায়, মদন মিত্র সহ তৃণমূল নেতৃত্ব । এদিনের সভায় জনসমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো।

এছাড়াও চেক করুন

পূর্ব-বর্ধমানে সোশ্যাল মিড়িয়া গ্রুপদের নিয়ে সভা করলেন তৃণমূল প্রার্থী সুনীল মণ্ডল

গৌরনাথ চক্রবর্ত্তী,‌স্টিং নিউজ, কাটোয়া ঃ আগামী ২৯ এপ্রিল বর্ধমান পূর্ব লোকসভা ভোট।তারই প্রস্তুতি হিসাবে বর্ধমান …

Leave a Reply

Your email address will not be published.