Breaking News
Home >> Breaking News >> বনধের প্রথম দিনে শহরে বাসের সংখ্যা ছিল যথেষ্ট, সকালে বামেদের জোর খাটানোর অভিযোগ, একাধিক গাড়িতে ভাঙচুর

বনধের প্রথম দিনে শহরে বাসের সংখ্যা ছিল যথেষ্ট, সকালে বামেদের জোর খাটানোর অভিযোগ, একাধিক গাড়িতে ভাঙচুর

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, হাওড়া: ওরা একসময় বাংলার মসনদে ছিল। কেন্দ্রের কংগ্রেস সরকারের সঙ্গেও ছিল জোটবদ্ধ সমর্থন। তখন কি কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি সবটাই ঠিক ছিল! এখন দেশজুড়ে মন্দার ছায়া। জিএসটি নিয়ে কার্যত নুইয়ে পড়েছে ছোট ব্যাবসায়ীরা। আর কেন্দ্রের সরকার মন্দির ও গরু নিয়ে রাজনীতি করছে। এমন একটি সময় ৪৮ ঘন্টা বনধ ডাকাটা খুব জরুরী ছিল! অন্য উপায়ে কি প্রতিবাদ করা যেত না।

সাঁতরাগাছি বাস স্ট্যান্ডে ধর্মতলা যাবার গাড়ি ধরবার জন্য অপেক্ষা করছিলেন বিনোদ পাঞ্জা। রাজারহাট এলাকায় কাজের জন্য এসেছেন। কথা বলবার ফাঁকে হলুদ ট্যাক্সি দেখেই হাত বাড়াতেই দাঁড়িয়ে যায় সামনে। চলে যাবার আগে জানিয়ে যান এটাই রাজ্যের পরিবর্তন। গোত্রহীন বনধের বাজারে গাড়ির চাকা সচল। বিনোদ বাবু শুধু একা নয় সকাল থেকে অফিস যাত্রীদের যাতায়াত করতে খুব বেশি অসুবিধা হয়নি। গাড়ি মিলেছে সময়েই। প্রচুর সংখ্যায় চলেছে সরকারি বাস। বেসরকারি বাস চলাচলের সংখ্যাও ছিল মোটের উপর। তবে দূরপাল্লার বাস যেগুলো দুই মেদিনীপুর থেকে হাওড়ায় আসে সে সব বাসের সংখ্যা ছিল কিছুটা কম।

কেন্দ্রের নীতির বিরুদ্ধে একাধিক ইস্যু নিয়ে বামেদের বনধ ডাকা। এ রাজ্যে কতটা প্রভাব পড়বে তা সোমবার থেকেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বামেদের বনধের আহ্বান কে প্রত্যাখ্যান করেন। তারপর তিনি জানিয়ে দেন রাজ্যের অবস্থান। ফলে রাজ্যবাসী মোটের উপর পরিস্কার হয়ে যায় মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া ৪৮ঘন্টা বনধ রাজ্যে সফল হবে না। তবে বামেদের শিরদাঁড়া নুইয়ে গেলেও জোর দেখাবার মত ক্ষমতা এখনো টিকে।

বনধের প্রথম দিনে জেলায় সকালের দিকে নিয়মমত গাড়ি চলাচল শুরু হয়। ৭টার সময় একদল বাম সমর্থক লাল পতাকা নিয়ে আমতা কলাতলা অবরোধ করে। ২টি টোটো’র কাঁচ ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। আমতা সিটিসি বাসস্ট্যান্ড থেকে বাস চলাচলে বাধা দেওয়া হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ছুটে আসে। টোটো চালকদের অভিযোগ, টোটোর সামনের কাঁচের দাম দেড় হাজার টাকারও বেশি। এই ক্ষতিপূরণ কে দেবে?এ দিনের মত আমতা-সাঁকরাইল, আমতা-উলুবেড়িয়া রুটে লোকাল বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। সমস্যায় পড়ে নিত্যযাত্রীরা।

আমতায় বামেদের যখন এই দৃশ্য ফুটে উঠছে সেই সময় ঝিখিরা থেকে ছেড়েছে এল বাস। ভিড় থাকলেও বাসের সংখ্যা ছিল বেশ কম। ছোট গাড়ি চলাচল করেছে। টোটো, ম্যাজিক, ট্রেকার চলেছে।
সকালে উলুবেড়িয়া স্টেশনে অবরোধের খবর ছড়ায়। বাধ্য হয়ে বহু মানুষ ৬নম্বর জাতীয় সড়কে চলে আসে বাস ধরতে। সেখানেও একাধিক বাস, লরি ভাঙচুর চালায় বনধ সমর্থকরা। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শহরের অবস্থা ছিল একি রকম। সকালের দিকে বেশ কিছু জায়গায় অবরোধ করা হয়। দাসনগর মোড় এলাকায় দোকান খুলতে বাধা দেওয়া এবং বালিতে জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়। এছাড়া একাধিক জায়গায় জোর করে দোকান বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। নবান্নের সামনে ছিল জোরদার পুলিশি নিরাপত্তা। এছাড়া বেলেপোল, সাঁতরাগাছি, কোনা এক্সপ্রেসওয়ে, বাঁকড়া, সালকিয়া সহ বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশের উপস্থিতি ছিল।

নবান্ন সহ একাধিক সরকারি দপ্তরে কর্মীদের উপস্থিত হবার প্রবণতা ছিল চোখে পড়বার মত। হাওড়া স্টেশনে লোকাল ও দূরপাল্লার ট্রেন চলাচল ছিল স্বাভাবিক। কিছু স্টেশনে অবরোধের জেরে ট্রেন হাওড়ায় ঢুকতে দেরি করেছে। গঙ্গায় ফেরি চলাচল ছিল স্বাভাবিক। এলাকা স্বাভাবিক রাখতে রাস্তায় শাসকদলের নেতাদের উপস্থিতি চোখে পড়ে। অনেক জায়গায় বাজার বসেছে অন্যত্র।

এছাড়াও চেক করুন

পশ্চিম মেদিনীপুরের লোহাটিকরীতে উল্টে গেল একটি সরকারি বাস

কা‌র্তিক গুহ, ‌স্টিং নিউজ, পশ্চিম মেদিনীপুর :- পশ্চিম মেদিনীপুরের গুড়গুড়িপাল থানার অন্তর্গত লোহাটিকরীতে উল্টে গেল …

Leave a Reply

Your email address will not be published.