Breaking News
Home >> Breaking News >> ট্রলি চালিয়ে,পরের বাড়িতে কাজ করে, মেলায় নারকেল-কলা বিক্রি করে ছেলে মেয়েদের উচ্চমাধ্যমিক পাশ করিয়েছে সাগরের সুশীলা

ট্রলি চালিয়ে,পরের বাড়িতে কাজ করে, মেলায় নারকেল-কলা বিক্রি করে ছেলে মেয়েদের উচ্চমাধ্যমিক পাশ করিয়েছে সাগরের সুশীলা

গঙ্গাসাগর থেকে কল্যাণ অধিকারী :

ভোরের আলো তখনও ঠিকমত পড়েনি। শীতল রাতের পিছমোড়া ছেড়ে একটু-একটু করে জাগছে সাগর। কম্বল মুড়ি দেওয়া শীত মেখে ভোরের প্রথম আলোয় সাগর চকচকে। রুম থেকে কয়েক’শ মিটার দূরে বিস্তীর্ণ সাগর তটে পৌঁছাতে অবাক। পূর্ণার্থী দের ভিড়ে জমজমাট গঙ্গাসাগর। হাটখোলা হাওয়ায় গেঞ্জিপেন্ট খুলে গামছা পড়ে টপাটপ ডুব দিচ্ছে। তার পাশে টলিতে নারকেল, কলা, টবে লাগানো তুলসীগাছ নিয়ে দাঁড়িয়ে সুশীলা মন্ডল।

স্বামীর ঘরে চার দশক পার করতে চলা সুশীলা আজও মস্ত হাতে সংসার পালন করে চলেছে। ঘরে রয়েছে স্বামী, দুই পুত্র সন্তান ও দুই কন্যা সন্তান। তাদের নাতিপুতিরা। একান্নবর্তী পরিবার বললে যা বোঝায় সবটাই রয়েছে। মাটির ঘরে উঠোনে ইষ্ট দেবতা আর খোলা আকাশ। সংসারে যতটা আজ হয়েছে সবটাই সুশীলার দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই এর ফল। পানের বোরজে মাটি দেওয়া, জল ঢালা, লোকের বাড়ি কাজ করা, ধান বোনা, ধান কাটা। তারপর বছর ঘুরে চলে আসে গঙ্গাসাগর মেলা। টলিতে নারকেল, কলা, ধূপ, তুলসীগাছ নিয়ে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করা।

কয়েক দশক আগে জীবনের শেষ ইচ্ছে মত একবার গঙ্গাসাগর যাত্রা করত বাঙালি ও দেশের আস্ত একটি পরগনা। চিরাচরিত ভিড় ঠেলে হোগলা পাতার ঘরে রাত্রিযাপন। তারপর উন্মুক্ত সাগর তটে কাঁপুনি ধরা সমুদ্রের জল আর ক্লান্তিকর গর্জন সরিয়ে স্নান সারা। কপিলমুণি আশ্রমে পূজো দিয়ে নাগা সন্ন্যাসীদের আশীর্বাদ গ্রহণ। শেষমেশ একরাশ পুণ্য অর্জন করে সংসারে পুনরায় ফিরে আসা। অথচ একবিংশ শতাব্দীর দেড় দশকের মধ্যেই ভক্তের তীর্থস্থান একদিন ও এক রাতের ঘুরে আসার ঠিকানায় পরিণত হয়েছে। মানুষের মধ্যে ভাবাদর্শর পরিবর্তন ঘটেছে। ভক্তিরসের ঢেউ ভাঙার আবেগের লেশ বিন্দুমাত্র দেখা মিলছে না। মিলছে পরিবর্তী প্রক্রিয়ায় ধীর গতি পরিবর্তন।

এ সব নিয়েই কথা হচ্ছিল সুশীলা’র সঙ্গে। এ বছর দু হাজার টাকার নারকেল, কলা কিনেছে। বিক্রি করে বাড়তি কিছু আয় তুলবার ইচ্ছে। ছোট মেয়ের নাতনিকে একটা নতুন জামা কিনে দিতে হবে। কিন্তু মানুষের থিকথিকে ভিড় না থাকায় বিক্রিবাট্টা নিয়ে চিন্তায় আছে সুশীলা। কচুবেড়িয়ায় বাপের ঘরে ক্লাস ফোর অবধি পড়ে বিয়ে হয়ে যায় ধোবলার মনসা তলায়। একটু পান বোরজ আছে, স্বামী মরশুমি গাছ কাটে। জমি জায়গা নেই। তবে ধান বোনা, ধান কাটা সব কাজ সুশীলার কাছে কোন ব্যাপার নয়। স্বামীর ঘরে থেকে সমস্ত কাজ করে দুই ছেলে ও ছোট মেয়েকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করিয়েছে। বড় মেয়ে সেভেন অবধি পড়ে ছেড়ে দেয়। ওটাই ওর আক্ষেপ। ওকেও উচ্চমাধ্যমিক পাশ করাতে পারলে ভাল হত।

সুশীলার পরিবার এপিএল কার্ডের অধিকারী। রেশন থেকে মেলে দু’টাকা দরের ছ কেজি চাল, আর গম বারো কেজি। বাকিটা গায়ে গতরে ইনকাম করে কিনতে হয়। টলি চালাই বলে অনেক কথা শুনতে হয়েছে। প্রতিবেশী দের কাছ থেকেও শুনতে হয়েছে গঞ্জনা। কিন্তু ওর স্বপ্ন ছিল ছেলে মেয়েদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করবার। বাম হাতের আঙুলে কাস্তের ও ডান হাত টলির হ্যান্ডেল ধরা দাগ পড়েছে। দুই ছেলের দুই বউ উচ্চমাধ্যমিক পাশ। ছেলেদের সঙ্গে আজও সমানে কাজ করে চলে বছর পঞ্চাশের সুশীলা।

আয়লা এসে পান বোরজ শেষ করে দিয়েছে। সেই ধাক্কা আজও সংসারে। শনিবার আটশো টাকা বিক্রি করেছি। বাকি দিনগুলোতে ভিড় বাড়বে। বিক্রি ঠিকঠাক হলে হাজার ছ’য়েক টাকা আসবে। মুড়িগঙ্গায় ব্রিজ না হলে মানুষের ভিড় বাড়বে কিভাবে বলো। মরে গিয়ে জন্ম হবে তবে ব্রিজ হবে। আমাদের দুঃখকষ্ট সেদিন ঘুচবে।

এছাড়াও চেক করুন

প্রচারের শেষ দিনে বালুরঘাটে তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষের সমর্থনে মহা মিছিল

শিবশংকর চ্যাটার্জ্জী, দক্ষিন দিনাজপুরঃ আগামী ২৩ শে এপ্রিল বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের নির্বাচন তার আগে আজই …

Leave a Reply

Your email address will not be published.