Breaking News
Home >> Breaking News >> নদিয়া বইমেলায় শুভ উদ্বোধন হল প্রদ্যুৎ দত্তের গ্রন্থ ‘ছাদ পেটানির গান’

নদিয়া বইমেলায় শুভ উদ্বোধন হল প্রদ্যুৎ দত্তের গ্রন্থ ‘ছাদ পেটানির গান’

সম্প্রতি নদিয়া বইমেলায় শুভ উদ্বোধন হল প্রদ্যুৎ দত্তের গ্রন্থ ‘ছাদ পেটানির গান’ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে তার নিজস্ব ধারার যে সকল লোক সঙ্গীতের আঙ্গিক আছে তাতে নদিয়া জেলার চাপড়া একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। সারি, জারি, বোলান, বঁদগান, বাউল, কবিগান-এর পাশাপাশি ছাদ পেটানোর গান এক সময় একটি বিশিষ্ট আঙ্গিক হয়ে উঠেছিল। চাপড়ার বিভিন্ন জায়গাতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন এই ঘরণার লোকশিল্পীরা।বাস্তু প্রযুক্তির পরিবর্তনের সাথে সাথে হারিয়ে যাচ্ছে ছাদ পেটানোর প্রয়োজন ও এই সকল শিল্পীরা।

স্বাভাবিক ভাবেই জীবন বাঁচানোর তাগিদে তাদের বংশধরেদের পেশার পরিবর্তনের কারনে এই লোকগান গুলিও অবলুপ্ত হতে চলেছে।প্রাচীন ভারতীয় স্থাপত্যের মন্দির, পারশিয়ান স্থাপত্যের গম্বুজ ও খিলান ও ইউরোপীয় গথিক স্থাপত্যের নিদর্শন ভারতে ভুরি ভুরি। কিন্তু সাধারণ সমতল ছাদ বর্তমানের রড সিমেন্ট পাথরের পরিবর্তে এক সময় পাকা বা কোঠা বাড়ির ছাদ তৈরী হত কড়ি বরগার উপর টালি ইঁট বসিয়ে, কড়ি বা আড়া হচ্ছে ১২ফুট লম্বা, ৭ ইঞ্চি উচ্চতা ও ৫ ইঞ্চি চওড়া কাঠের ব্লক ৩ ফুট অন্তর বসিয়ে তার উপর আড়া আড়ি ভাবে ২ ইঞ্চি চওড়া, ৩ ইঞ্চি উচ্চতা ও ৩১/২ ফুট লম্বা কাঠের সারি ১ফুট অন্তর বসিয়ে তার উপর টালি ইঁট যার মাপ ছিল ১২x৬x২ ইঞ্চি ঘরের মাপ ও গুরুত্ব অনুযায়ী আড়ার মাপের পরিবর্তন হত।তার উপর চুন, সুরকী (ইঁটের গুড়ো), খোয়া (১ ইঞ্চি মাপের ইঁটের টুকরো) যথাক্রমে ১:৩:৪ পরিমানে মিশিয়ে সাধারণত ৬ ইঞ্চি পুরু করে ঢেলে দেওয়া হত।

এই কাজে ব্যবহার করা হত পাথুরে চুন যা ব্যবহারের ১দিন আগে জল ছিটিয়ে ফুটিয়ে নেওয়া হত। ছাদের উপর চুন, সুরকী ও খোয়ার মিশ্রন ঢেলে তা সমান করে নিয়ে রাজমিস্ত্রীর (প্রধান নির্মাণকারী) নির্দেশে সারিবদ্ধ জোগাড়েরা (নির্মাণকার্যে সাহায্যকারীরা) দিন রাত এক করে পেটাতে শুরু করতেন ছাদ। পেটানোর জন্য ব্যবহার হত বিশেষভাবে তৈরী হাতল যুক্ত কাঠের বাটাম যাকে বলা হত পিটুনি।আর এই ছাদ পেটানোর সময় এক প্রধান গায়কের সাথে সকলে মিলে গাইতেন গান। এর প্রধান কারন ছিল যাতে পিটুনিটা গানের তালে তালে এক সাথে ছাদে বাড়ি খায় আর তার সাথে কর্মিদের উদ্দীপ্ত করে এবং সারারাত জেগে থাকতে সাহায্য করে।

এ কাজে নদিয়ার মায়াপুর, শোনডাঙা, তেহট্ট. ধুবুলিয়ার সাথে সাথে চাপড়ার কিছু শিল্পী ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ। নির্মাণ প্রযুক্তি পরিবর্তনের কারনে এখন আর ছাদ পেটানো হয় না। কিন্তু পেশা বদল হলেও এদের কেউ কেউ ভুলতে পারেনি তাদের গান। তাদেরই একজন চাপড়ার বাঙ্গালঝি গ্রামের ডাঙাপাড়ার বাসিন্দা বদরআলি মিস্ত্রী।শেরজান মিস্ত্রীর ছেলে বদরআলি ঐ গ্রামেরই হাজারী মিস্ত্রী ও আবদ গোঁসাই-এর সাথে জোগালের কাজ করতেন। ছাদ পেটানোর সাথে সাথে স্কুলের দরজায় পা না দিলেও কখন যে তিনি সুদক্ষ গায়ক ও গান বাঁধতে শিখেছিলেন তা তিনি নিজেই জানেন না। নানা ধরনের ছাদপেটানি গান যেমন লীলাকারী, বটকিরি, বারাসি, খ্যামটা ও খেওর ইত্যাদি গানগুলির কোন স্বরলিপি ছিলনা শুনে শুনে মনে রাখার রেওয়াজ ছিল।

উল্লেখ্য, প্রদ্যুৎ দত্ত নদিয়া জেলার চাপড়া বাঙ্গালঝি জনপদের মানুষ। পেশায়। বাঙ্গালঝি রামকৃষ্ণ আশ্রম স্কুলের একজন বিশিষ্ট শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবব অভিভাবিকা মহলে তাঁর বিপুল জনপ্রিয়তা। নিশায় তিনি একজন শিল্পী ও কবি।স্বনামধন্য শিল্পী অভিজিৎ রায়, চন্দ্র ভট্টাচার্য্য ও আশীষ চৌধুরীর কাছে তাঁর শিল্পী স্বত্তার বিকাশ ঘটে। তাঁর শিল্পশিক্ষায়তনে তিনি গভীর প্রযত্নে লালন করেন অসংখ্য ফুটনোনুখ শিক্ষার্থীকে, যারা পরবর্তীতে তাঁর পরম্পরা বজায় রেখে এগিয়ে নিয়ে চলেছে তাঁর শিল্পী মানসকে।এছাড়াও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গেও সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন দীর্ঘদিন।

এখানেই ক্ষান্ত না থেকে তিনি তাঁর সদা জিজ্ঞাসু ও অনুসন্ধিৎসু মনকে প্রসারিত রেখেছেন তাঁর এলাকার লোকায়ত জীবনেও। তাঁর সমৃদ্ধ জনপদের সাধারণমানুষের যাপিত জীবনের পরতে পরতে যে লোকশিল্পের বিভিন্ন আঙ্গিকের বিস্তার, সেখানে তার সন্ত্রমপূর্ণ অনুসন্ধান।আর এই অনুসন্ধানেরই ফলস্বরূপ এই গ্রন্থটি। বিগত প্রায় পাঁচ বছর। ধরে প্রতিনিয়ত বদরআলি মিস্ত্রীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে তিনি অসংখ্য ‘ছাদ পেটানি গান’ সংগ্রহ করেছেন ও শ্রেণী বিন্যস্থ করেছেন।

এছাড়াও চেক করুন

প্রচারের শেষ দিনে বালুরঘাটে তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষের সমর্থনে মহা মিছিল

শিবশংকর চ্যাটার্জ্জী, দক্ষিন দিনাজপুরঃ আগামী ২৩ শে এপ্রিল বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের নির্বাচন তার আগে আজই …

Leave a Reply

Your email address will not be published.