Breaking News
Home >> Breaking News >> বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন হোস্টেলে কি থিম এবার? জেনে নিন এক ঝলকে

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন হোস্টেলে কি থিম এবার? জেনে নিন এক ঝলকে

নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান: বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসগুলিতে এখন থিমে থিমে ঠোকাঠুকি। শারদ উৎসবের এখনও
ঢের দেরি, কিন্তু তাঁর আগেই জোর টক্করে সম্মুখ সমরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি বয়েজ ও গার্লস
হোস্টেল। কারণ সামনেই সরস্বতী পুজা।বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের এই পুজার আবেগ ও উম্মাদনা
হার মানাবে শারদীয়া উৎসবকেও। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলগুলির মধ্যে সরস্বতী পুজো
নিয়ে এই রকম উন্মদনা শুরু হয় সত্তরের দশকে। তারপর পরম্পরা বেয়ে চলে আসছে একই
ট্র্যাডিশন।হোস্টেলের আবাসিকরাই নির্মান করে মণ্ডপ বা অন্যান্য সজ্জা। এই বছরে কোন
হোস্টেল কি কি থিমে একে অপরকে টেক্কা দেবে, সেটাই ঘুরে দেখলাম আমরা…
 বিবেকানন্দ ছাত্রাবাসঃ থিম- ‘শান্তির খোঁজে’। নগর সভ্যতার প্রভাবে পশু পাখীদের
অস্তিত্ব আজ বিপন্ন। নানাভাবে বিপন্ন মানবজাতিও। এইসব সরিয়ে সবুজ পৃথিবী বুকে
এক টুকরো শান্তির জায়গার সন্ধ্যান দিচ্ছে এই ছাত্র হিসাব। ছাত্রাবাসের তাপস মাঝি,
স্বরূপ সরকার, রবীন বিশ্বাসরা জানান, প্রায় দেড় লাখ টাকা বাজেটে টিসু পেপার,
থার্মোকল দিয়ে সেজে উঠছে তাদের মন্ডপ।
 রবীন্দ্র ছাত্রাবাসঃ দিনদিন বাড়ছে মোবাইল ব্যাবহার। গবেষনায় বলছে ৫ জি প্রযুক্তি
বাড়লে বহু পশুপাখী মারা যাবে। একইসঙ্গে মোবাইল ইন্টারনেটে আসক্তির ফলে মানুষের
কি কি সমস্যা বাড়ছে সেই দিক তুলে ধরছে এই ছাত্রাবাস। ছাত্রাবাসের স্বরুপ দাস,
সন্দীপ ক্ষেত্রপালরা জানান, প্রায় লাখখানেক টাকা বাজেটে থার্মোকল ও বিভিন্ন ছবি
ব্যাবহার করে এই বিষয়ে সচেতন করা হবে।
 নেতাজী ছাত্রাবাসঃ এই ছাত্রাবাসের থিম ‘আদি ও অন্ত’। মূল প্রবেশদ্বারে প্লাস্টিকের
বোতল দিয়ে ডাইনোসরাস নির্মান করা হয়েছে। তাঁর মধ্যমে মানব জাতির আদি পর্যায়কে
তুলে ধরা হয়েছে। একইভাবে প্লাস্টিক ব্যাবহার ও নানা কার্যকলাপে মানবজাতী কিভাবে
ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তা থিমের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। ছাত্রাবাসের প্রদীপ
চক্রবর্তী, সামিউল ইসলামরা জানান, এবারের তাদের বাজেট প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার
টাকা।
 চিত্তরঞ্জন ছাত্রাবাসঃ ‘সর্বধর্ম সমন্বয়’ এই থিমেই সেজে উঠছে তাদের বাগদেবীর
মন্ডপ। মূল প্রবেশদ্বার মসজিদের আদলে, তারপর গির্জার মধ্য দিয়ে গিয়ে মন্দিরের
মধ্যে দেখা মিলবে সরস্বতীর। পাশেই থাকবে বৌদ্ধ মন্দির। মানবতার বার্তা দিতেই এই
থিম চয়ন বলে জানান, ছাত্রাবাসের ছাত্র রঞ্জিত গনাই, পৃথ্বীজিৎ মন্ডল, তাপস
সাধনরা। লাখ খানেক টাকার বাজেটে সাজছে এই মন্ডপ।
 অরবিন্দ ছাত্রাবাসঃ শিক্ষাক্ষেত্রে অশান্ত পরিবেশ, যা একান্তই কাম্য নয়। সেই ধারণা
থেকেই অরবিন্দ ছাত্রাবাসের এবারের থিম তপোবনের শিক্ষা ব্যাবস্থা। তপোবনের
আদলে মন্ডপ নির্মান করে সেখানে বিভিন্ন মডেলের মাধ্যমে তৎকালীন
শিক্ষাব্যবস্থাকে তুলে ধরা হয়েছে। প্রায় দেড় লাখ টাকা বাজেটে এই থিম সেজে উঠেছে
বলে জানান, শুভম পাতর, সন্দীপ বাজপেয়ী, বিশ্বনাথ রায়রা।
পিছিয়ে নেই মহিলা হোস্টেলগুলিও। তাঁরাও রীতিমত পাল্লা দিচ্ছে বয়েজ
হোস্টেলগুলিকে।

 মীরাবাঈ ছাত্রীনিবাসঃ এবার তাদের থিম ‘স্বপ্নপুরী’। কংট্রিক যুগে এক্মুঠো মুক্ত বাতাস
আর সবুজ পৃথিবীর বড় অভাব। এইসব সরিয়ে এক টুকরো স্বপ্ন নগরী তুলে ধরা হচ্ছে
তাদের থিমে। ফোম, পুঁতি আর আলোর ব্যাবহারে ফুটে উঠছে স্বপ্নের পৃথিবী। হীমদ্যুতি
ঘোষ, অনিশা বন্দ্যোপাধ্যায়রা জানান, প্রায় দেড় লাখ টাকার বাজেটে তাদের থিম ফুটে
উঠছে।
 নিবেদিতা ছাত্রীনিবাসঃ এবারের তাদের থিম ভাবনায় উঠে এসেছে অভিনবত্ব। ভারতীয়
নৃত্যশৈলীর বিভিন্ন ধারা ফুটে উঠেছে তাদের থিমে। এবারে তাদের বাজেট প্রায় ১ লাখ।
থার্মোকলের মাধ্যমে ভারতীয় নৃত্যেরে বিভিন্ন ধারা গোটা মন্ডপে তুলে ধরা হয়েছে।
 সরোজিনীঃ সবুজেই শান্তি থিমে সেজে উঠছে তাদের মন্ডপ। সোলা, কাপড়, খড় ইত্যাদি
দিয়ে এক টুকরো সবুজ পৃথিবীর সন্ধান দিচ্ছে সরোজিনী ছাত্রীনিবাস। তাদের আবাসিক
দীপ্তি মন্ডল, সুচিত্রা বিশ্বাস, সঙ্ঘমিত্রা লেটরা জানান, প্রায় ১ লাখ টাকা বাজেটে তারা
এই থিম সাজাচ্ছেন, যা সকলকে চমকে দেবে।
 প্রীতিলতা ছাত্রীনিবাসঃ তাদের থিম ভাবনায় উঠে আসছে ‘ শিক্ষায় সমুদ্রমন্থন’। মন্দিরা
মিত্র, আত্রি ব্যানার্জী, বেলা মন্ডলরা জানাচ্ছেন, শিক্ষায় মূল ভিত্তি। সেই
সমুদ্রমন্থনের সময় থেকে শিক্ষায় মানুষকে তথা সমাজকে সঠিক দিশা দেখাচ্ছে। সেটাই
তাদের থিমে উঠে আসছে। তাদেরও বাজেট প্রায় লাখ ছুঁইছুঁই।
 বাবু জগজীবন ছাত্রীনিবাশঃ তাদের থিমে এবার উঠে এসেছে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য নৃত্যশৈলী।
থার্মোকল ও পেপার দিয়ে দেশ বিদেশের নানা নাচের ছন্দ থাকছে তাদের থিমে। শম্পা
মন্ডল, সুচেতা সাহা, রাজশ্রী সাহারা জানান, প্রায় ১ লাখ টাকা বাজেটে তাদের থিম সেজে
উঠেছে।
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সভাপতি মণিকাঞ্চন মণ্ডল এই
উদ্দীপনা সম্পর্কে বলেন, থিমের আদলে বা নানা কারুকার্জের কার্ড নিয়ে
নিমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয় হোস্টেলগুলিকে। তারপর শুরু হয় পুজো। পুজোর সকাল
থেকে মেয়েদের হোস্টেল থেকে ছেলেদের হোস্টেলে আসে তত্ব। ফুল মিষ্টি সহকারে
বিয়ের তত্ব দেওয়ার মতয় শাড়িতে সজ্জিত হয়ে মেয়েরা আসে তত্ব নিয়ে, তারপর
ছেলেরাও যায় মেয়েদের হোস্টেলে তত্ব দিতে। এরই সাথে প্রতিটি হোস্টেলেই থাকে
দেদার খাওয়াদাওয়া। এই বছরেও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। এছাড়াও আইনস্টাইন ও
গার্গী নামে দুটি রিসার্চ হোস্টেল রয়েছে তাঁরাও একইভাবে নানা থিমে এই পূজাতে
সামিল হয়।

এছাড়াও চেক করুন

দলনেত্রীর ডাকা বৈঠকে না গিয়ে রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত সিতাইয়ে গেলেন রবি

মনিরুল হক, কোচবিহারঃ দলনেত্রীর ডাকা বৈঠকে না গিয়ে রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত সিতাইয়ে গেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের …

Leave a Reply

Your email address will not be published.