Breaking News
Home >> Breaking News >> গ্রাম অতিষ্ঠ করে শহরমুখি দুই উদ্যাম হাতি, বাগে আনতে নাজেহাল প্রশাসন

গ্রাম অতিষ্ঠ করে শহরমুখি দুই উদ্যাম হাতি, বাগে আনতে নাজেহাল প্রশাসন

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, করেসপনডেন্ট, হাওড়া: দুপুরের ভাত ঘুম দিচ্ছিল সায়রা বিবি। তখনি পাশের বাড়ির তাসলিম চেঁচিয়ে ওঠে সায়রা শিগগির ওঠ জমিতে হাতি এসেছে তাও দু দু’টো। ছোট বেলায় বাগনানে সার্কাস দেখতে গিয়ে হাতি দেখেছিল। কিন্তু এ গ্রামে হাতি আসবে কেন! বিরবির করতে করতে সবার সঙ্গে সায়রা বিবিও এগিয়ে চলেছে মাঠের দিকে। গোটা মাঠজুড়ে হাতি দেখার ভিড়। সকলে ইতস্ততভাবে ছোটাছুটি করছে। পাশপাশি বিভিন্ন গল্প বলাবলি হচ্ছে। কেউ বলছে হাতি পাগলা হয়ে গিয়েছে। কারো কথায় আবার হাতি দুটো জঙ্গলের। সামনে যা পাবে আস্ত রাখবে না।

সরস্বতী পুজোর পরের দিন সোমবার দুপুর থেকে গ্রামীণ হাওড়ার শেষ প্রান্ত তেখালি, পার কলাহার, ভৈরবপুর, উত্তর হায়াতপুর সহ একাধিক গ্রামে হাতি আসবার খবরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গ্রামের মানুষ জন নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে জমিতে ঠায় অপেক্ষায়। খেতের ফসল রক্ষা করতে হবে। বাঁচাতে হবে শস্য। উত্তর হায়াতপুর গ্রামের বাসিন্দা অষ্ট প্রধান এর কথায়, গ্রামে হাতি এসেছে শুনে আমি আত্যিয়ের বাড়ি থেকে চপে আসি। টিনের ছাউনি বাড়ি ও হাতি আস্ত রাখবে না। আর এক বাসিন্দা, মনসুর আলম এর কথায়, দু’টি হাতি দেখেছি। শুড় বাগিয়ে এগিয়ে চলেছে। সামনে যা পাচ্ছে আস্ত রাখছে না। মনসুরের মতো গ্রামের ছেলে ছোকরারা হাতির খবরে বেজায় উদ্যিপ্ত।

কিন্তু হাতি আসলো কোথা থেকে?

গ্রামীণ হাওড়ার তেপান্তর জুড়ে ছিটেফোটাও জঙ্গল নেই। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া জেলাও কয়েক’শ মাইল দূরে। তবে রূপনারায়ণ পার করলেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা। তবে সেখান থেকে জঙ্গল বহুদূরে সেই খড়গপুর পার করে। উলুবেড়িয়া বন দপ্তরের এক কর্তার কথায়, কোনভাবে দলছুট হয়ে চলে আসতে পারে। সোমবার সকালের দিকে প্রথম হাতির খবর মেলে দ্বীপ অঞ্চল ভাটোরায়। দিনভর মাঠঘাট চষে বেড়াবার পর বিকেলের দিকে চলে আসে পাশের এলাকা উত্তর হায়াতপুর গ্রামে। যা মধ্যরাত অবধি চাঞ্চল্য ছড়িয়ে থাকে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় হাতি আসবার খবরে পুলিশের ছোটাছুটি বেরেছে। জয়পুর থানার পুলিশের একটি দল এলাকায় যায়। পরে জানা যায় দুটি হাতি ঝিখিরা, জয়পুর হয়ে তখন প্রায় রাত দু’টো চলে আসে সিয়াগড়ি এলাকায়। এরপর সিয়াগড়ি চ্যানেল পার করে সড়ক পথ ধরে আমতার দিকে চলে যায়। সেয়াগড়ি হাজরা পাড়ার মাঝ বয়সী সুদীপ হাজরা। তার কথায়, মাঝ রাতে দেখি দৈত্যকার হাতি ছুটে চলেছে। হাতি আগেও দেখেছেন তবে এমন দৈত্যকার হাতি দেখেননি। এলাকার আর এক মাছ চাষি জানান, ভোরের দিকে কিছু দেখে ভয়ে চলে আসি। পরে লোকমুখে শুনি হাতি এসেছে। আগে সার্কাসের হাতি নিয়ে মাহুত ঘরতে আসতো। এখন সেসব আর আসে না। জঙ্গলের হাতি পথ ভুলে চলে আসার ঘটনা অতি আশ্চর্য ঘটনা।

মঙ্গলবার সকালের আলো ফুটবার আগেই হাতি দুটি আমতা পার করে ফেলে। জানা গেছে চা খানা, পানপুর একের পর এক এলাকার পার করে এগিয়ে চলেছে হাতি। আর পিছু নিয়েছে সাধারণ মানুষ। ইসলামপুর, দশ নম্বর, মানিকপীর সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় জমির ফসল না থাকলেও ধান চাষের ক্ষতি হবার আশংকায় সকলে। পটোকা ফাটিয়ে হাতি তাড়াবার কাজে লেগেছে সাধারণ মানুষ। কলাগাছ, নারকেল পাতা শুঁড় দিয়ে খেতে খেতে এগিয়ে চলেছে। খবর পেয়ে পুলিশ এলাকায় পৌঁছেছে। হাতি তাড়াতে ভাটোরা সহ বিভিন্ন এলাকায় যে হল্লা পাটি কে আনা হয়েছিল তাদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। উলুবেড়িয়া বনদপ্তরে খবর দেওয়া হয়েছে। যেভাবে হোক বাগে এনে মেদিনীপুর জঙ্গলে নিয়ে যাবার কথা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

এছাড়াও চেক করুন

প্রচারের শেষ দিনে বালুরঘাটে তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষের সমর্থনে মহা মিছিল

শিবশংকর চ্যাটার্জ্জী, দক্ষিন দিনাজপুরঃ আগামী ২৩ শে এপ্রিল বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের নির্বাচন তার আগে আজই …

Leave a Reply

Your email address will not be published.