Breaking News
Home >> Breaking News >> অতিথি ‘বন্যপ্রাণী’ এ সমাজে ঠাঁই কোথায়!

অতিথি ‘বন্যপ্রাণী’ এ সমাজে ঠাঁই কোথায়!

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ: ইচ্ছে হলেও এ সমাজে ওদের ঘুরে বেড়ানোর উপর রয়েছে বিধিনিষেধ। সবুজের সমারোহে দু দন্ড জিরিয়ে নেবার জো নেই। প্রকৃতির উপর গজিয়ে ওঠা কলাগাছ, নারকেল পাতা খেলেই রে রে করে উঠছে। পিছু ধাওয়া করা হচ্ছে। পটকা ফাটান হচ্ছে! এতেও শান্তি হয় নি শিক্ষিত সমাজের। তারপর! তার পর ট্রিগার টিপে ঘুম পারানো হয়। জানেনা আদৌ ঘুম ভাঙবে তো!

ওরা তো পশু। ওদের আবার সুস্থ সমাজে থাকার অধিকার কোথায়! জঙ্গল ই ওদের একমাত্র থাকার জায়গা। যদিও আগে ছিল সার্কাস। সেখানে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো। মাহুতের কথায় চলতে হতো, খেলা দেখাতে হতো। সেখান থেকে নিস্কৃতি মিললেও সমাজে ওদের খোলামেলা ঘোরাঘুরি করবার অধিকার টুকু নেই। এখানে ভদ্র ও শিক্ষিত মানুষ জন থাকে যে। ফোর জি ব্যবহার করে। ফাইভ জি আনতে দরবার করছে।

দু’টি হাতি জঙ্গল থেকে চলে আসে প্রথমে হুগলী জেলায়। ও পরে রাতের অন্ধকারে হাওড়া জেলায়। অতিথিদের আতিথেয়তার বদলে তাদের দূর করতে শশব্যস্ত হয়ে পরে আকুন্ঠ সমাজ। প্রশাসন হল্লা বাহিনী নিয়ে আসে। মশাল জ্বালানো হয়। কেউ কেউ পটকাও ফাটায়।
ওরা কেন আসবে এই সমাজে?
রে রে করে তেড়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ওরা দুজনে দিকভ্রান্ত হয়ে চলতে থাকে। ধানি জমি, পুকুর, বাঁশবাগান, কলা গাছের খেত সবকিছু পার করে শুধুই চলতে থাকে।

কিন্তু মনুষ্য সমাজে ওদের ঠাই মেলে কি? ঘিরে ধরে খেদানো হয়। উত্তপ্ত করা হয় সমানে। প্রশাসন শান্তি ফেরাতে ততপর। অগত্যা ডাকা হয় বন্দুকধারী দের। ঘুমের ওষুধ দেওয়া ট্রিগার টিপতেই ক্রমশ আচ্ছন্ন হয়ে যায় শরীর। এগিয়ে যাবার ক্ষমতা হ্রাস পায়। টলমলে শরীর মাটিতে লুটিয়ে পরে। এ যেন কয়েক ঘন্টার যুদ্ধের শেষ! এ বার শান্তি। ঘিরে ধরে মোবাইলে সেলফি নেবার পালা। পশুর পাশে তখন বহুল পরিচিত শব্দ ‘মানুষ’। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট, বন্ধুদের কাছে শেয়ার করে বীরত্বের আস্ফালন।

জঙ্গল কাটছি আমরা। ধবংস করছি ওদের বাসস্থান। খাদ্যের অভাব ঘটানো হচ্ছে। বানানো হচ্ছে কংক্রিটের বাসগৃহ। আর ওরা সবকিছু হারিয়ে মনুষ্য সমাজে চলে আসলেই রে রে করে তেড়ে যাচ্ছে দু পা আর দু হাতের ‘মানুষ’। সুস্থ সমাজে ‘ট্রিগার’ এখন কথা বলে। শান্তি ফেরারে ‘ট্রিগার’ চাপতে হয়। ওদের শরীরে ক্ষত সৃষ্টি করতে ‘ট্রিগার’ দাবাতে হয়। তারপর লরি তে তুলে পুরুলিয়া কিংবা অন্য কোন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়।

অতিথি তোমরা এসো না আর এই সমাজে। এখানে তোমাদের স্থান নেই। তোমরা বন্যপ্রাণী। গায়ে জঙ্গলের গন্ধ। পায়ে মাটির ছাপ। তোমাদের দেখলে সবাই তাড়া করবে। তোমরা শুঁড় তুলে কাউকে ছুঁতে পারবে না। তাহলে ই কিন্তু ‘ট্রিগার’ চেপে দেওয়া হবে। বাকিটা টলতে থাকা শরীর, আচ্ছন্ন হয়ে যাওয়া চোখ। দেহ আছড়ে পড়বে মাটিতে!

এছাড়াও চেক করুন

প্রচারের শেষ দিনে বালুরঘাটে তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষের সমর্থনে মহা মিছিল

শিবশংকর চ্যাটার্জ্জী, দক্ষিন দিনাজপুরঃ আগামী ২৩ শে এপ্রিল বালুরঘাট লোকসভা কেন্দ্রের নির্বাচন তার আগে আজই …

Leave a Reply

Your email address will not be published.