Breaking News
Home >> Breaking News >> কারখানা নির্মাণ করতে ডাম্পার ভর্তি লাল মাটিতে চলছে জমি ভরাট, বিপন্ন সবুজ, উদাসীন প্রশাসন

কারখানা নির্মাণ করতে ডাম্পার ভর্তি লাল মাটিতে চলছে জমি ভরাট, বিপন্ন সবুজ, উদাসীন প্রশাসন

কল্যাণ অধিকারী, হাওড়া : বালি বোঝাই লরি দেখলে আটকাচ্ছে প্রশাসন। কিন্তু ডাম্পার বোঝাই লাল মাটি গেলেও আটকাচ্ছে না। বালি পাচার রুখতে যতটা ততপর প্রশাসন। ডাম্পার উপচে পরা লাল মাটি দেখেও চেকিং হচ্ছে না। আর বাধা না পেয়ে ডাম্পার বোঝাই লাল মাটি পৌঁছে যাচ্ছে গ্রামীণ হাওড়ার বিভিন্ন প্রজেক্ট এলাকায়। সবুজ ভরা জমি ভরাট করে চলছে কারখানা নির্মাণের কাজ।

আমতা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এলাকায় একাধিক কারখানা নির্মাণ-এর জন্য চলছে জমি ভরাট করবার কাজ। বিঘার পর বিঘা জমিতে মাটি ফেলে তার উপর লাল মাটি মিলে কারখানার যোগ্য করে তোলা হচ্ছে। দিনের আলোয় চোখের সামনে একরের পর একর জমি ভরাট হচ্ছে। এই কাজের জন্য বরাত মিলেছে বিভিন্ন কন্ট্রাকটর দের। এমনও তথ্য উঠে আসছে মাটি ভরাট-এর কাজে যুক্ত আছে শাসক দলের কিছু নেতা।

চন্দ্রপুর অঞ্চলের অধিন আমতা মাদ্রাসা এলাকায় বহু একর জমির উপর ইউনিট গড়ে তুলছে একটি বহুজাতিক সংস্থা। মাটি ফেলে জমি ভরাটের কাজ চলছে। ওই কাজে নামানো হয়েছে কুড়িটির বেশি ডাম্পার। লাল মাটি ভরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ঝাঁকুনিতে ডাম্পার থেকে ছিটকে রাস্তায় পড়ছে লাল মাটির চাওর। আহত না হলেও মাজুক্ষেত্র এলাকার এক স্কুল পড়ুয়ার সাইকেলের কেরিয়ারে পড়ায় সাইকেল নিয়ে ছিটকে যায়। কোনোক্রমে রক্ষা পায় ছাত্রটি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, চন্দ্রপুর, ইসলামপুর সহ একাধিক অঞ্চলের অধীন এলাকার ফাঁকা জমি ভরাটের কাজ চলছে। দশ নম্বর এলাকার পর মাঠের মাঝখানে শুধু কারখানার শেড। অসাধু উপায়ে মাটি ভরাটের কাজ চলছে। এই কাজে যোগসাজশ রয়েছে নেতাদের। রাজনৈতিক মদতে চলছে জমি ভরাটের কাজ। বাইরে থেকে লাল মাটি এনে ফেলা হচ্ছে। ডাম্পার ভরা লাল মাটি কোন কিছু চাপা না দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের কোনপ্রকার নজরদারি নেই।

এই বিষয়টি আমতা ১ নম্বর বিডিও তে পৌঁছেছে বলে সূত্রের খবর। নিয়ম মেনে যাতে ডাম্পার ভরাট করে লাল মাটি নিয়ে যাওয়া হয় সে বিষয় প্রশাসনকে নজরদারি চালাবার কথাও জানানো হয়েছে। তবে সমস্তটাই প্রশাসনিক ব্যাপার। এ বিষয় নিয়ে পঞ্চায়েতের কেউ মুখ খুলতে চাইছে না। তবে লাল মাটিতে জমি ভরাটে আশপাশের জমির সবুজ নষ্ট হচ্ছে। একথা একবাক্যে স্বীকার করে নিচ্ছে এলাকাবাসী। তবে কানাঘুষো জমি ভরাটের সমস্ত কাজটা চলছে রাজনৈতিক নেতাদের সাহায্যে।

রাস্তা দিয়ে দৈত্যকার ডাম্পার ভরে নিয়ে যাওয়ার সময় ত্রিপল বা অন্য কিছু দিয়ে চাপা দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে না। যার ফলে রাস্তায় পড়ছে লাল মাটির চাওর। বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে গেলে তার দায় কে নেবে। আমতা থেকে একাধিক রুটে কয়েকশ টোটো চলাচল করে। এছাড়া অটো, ট্রেকার বাইক চলাচল করে। তবুও নিষেধের বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ডাম্পার ভরা লাল মাটি নিয়ে আসা হচ্ছে। চলছে জমি ভরাটের কাজ এমনটাই অভিযোগ।

শহর ছাড়িয়ে গ্রাম্য এলাকায় এখন বন্যপ্রাণীর বসবাস। রয়েছে সারস, বক সহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। লাল মাটি ছড়িয়ে পড়ছে এলাকার গাছে। তাদের জীবনদশাতেও সমস্যা হচ্ছে। কে শোনে কার কথা। সমস্যা জিইয়েই জীবন কে অতিবাহিত করছে ওরা।

এছাড়াও চেক করুন

নদীয়ার বেথুয়াডহড়ীতে রক্তদান ও সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করল বেথূয়াডহরী টাউনক্লাব

নবেন্দু ভট্টাচার্য, স্টিংনিউজ করেন্সপন্ডেন্ট, নাকাশীপাড়া, নদীয়া: গ্রীষ্মের দাবদাহে অতিষ্ঠ ক্লান্ত মানুষ যখন স্বস্তির জন্য হাসফাঁস …

Leave a Reply

Your email address will not be published.