Breaking News
Home >> Breaking News >> এক অন্যরকম দোল খেলার সাক্ষী থাকল বালুরঘাটের আত্রেয়ী নদীর পাড়ের বাসিন্দারা

এক অন্যরকম দোল খেলার সাক্ষী থাকল বালুরঘাটের আত্রেয়ী নদীর পাড়ের বাসিন্দারা

শিবশঙ্কর চ্যাটার্জ্জী, দক্ষিন দিনাজপুর: সর্বত্র যখন আবীর মেখে বসন্ত উৎসব উদযাপনে সকলে মাতোয়ারা, ঠিক সেই সময় এক অন্যরকম ছবি ধরা পড়ল দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে। কয়েকজন যুবক ও কলেজ পড়ুয়াদের উদ্যোগে বসন্তের এই রঙিন দিনে অন্য রকম এক রঙিন চিত্র ফুটে উঠলো। নিজেদের হৃৎপিণ্ডের সমস্ত সুখ-শান্তি যেনো তারা ঢেলে দিলো আত্রেয়ীর পাড়ের বঞ্চিত শিশুদের জন্য। শহর কিংবা পাড়ার প্রতিটি কণায় তখনও চলছে কোমর নাচিয়ে বসন্তের রঙে রঙিন হয়ে ফটোসুটের পালা।

কিন্তু এ এক অন্য ধারার উদ্ভব হল। বৃহস্পতিবার বসন্ত উৎসব উপলক্ষে যখন গায়ে মাথায় আবীর লাগিয়ে সবাই রঙিন হওয়ার আনন্দে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময় এক অন্যরকম চিত্র দেখলো বালুরঘাটের মানুষ। আত্রেয়ীর পাড়ের বঞ্চিত অবহেলিত পরিবারের শিশুদের জন্য এক অভিনব আয়োজন করলো ওরা। ওরা বলতে দেবাশীষ, সন্তোষ, পঙ্কজ, বিপুল প্রিয়জিৎদের মতো কলেজপড়ুয়া সহ কৌশিক, অভিজিৎ, তাপস সরকারদের মতো জনাকয়েক যুবকরা। এদিন তাঁরা বালুরঘাটের আত্রেয়ী পাড়ের বঞ্চিত শিশুদের মধ্যে নতুন পোশাক, খাতা, কলম, চকলেট, জিলিপি সহ আরও অন্যান্য সামগ্রী তুলে দেয়। আত্রেয়ীর পাড়ের এই অভাবী মানুষগুলোকে সমাজ যখন অবহেলার চোখে দেখে, ঠিক সেই সময়ে দাঁড়িয়েই এই প্রজন্মের তরুণদের এমন অভিনব উদ্যোগ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে মত স্থানীয়দের। দোল উপলক্ষ্যে আগে তাঁরা এমন উদ্যোগ লক্ষ্য করেননি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এদিন তাঁরা আত্রেয়ীর পাড়ের অবহেলিত দুস্থ ১০ জন শিশুকন্যার গায়ে নতুন পোশাক পরিয়ে রঙিন করার পাশাপাশি শিশুদের নিয়ে চলে দীর্ঘক্ষণের আলোচনা চক্র। খুঁদেরা আত্রেয়ীর পাড়ে বসে নিজেদের মনে কথাগুলো শেয়ার করতে থাকে উপস্থিত দাদা-দিদিদের মধ্যে। দাদা-দিদিদের এমন উদ্যোগকে খুশি আত্রেয়ীর পাড়ের খুঁদেরা।

এবিষয়ে সন্তোষ, তঞ্জয়, প্রিয়জিৎ, বিপুল, দেবাশীদের মতো উদ্যোগী তরুণরা বলেন, তথাকথিত চিন্তা ভাবনা থেকে বাইরে বেরিয়ে এসে আমাদের এই উদ্যোগ। গ্রাম থেকে শহর সবাই যখন চৈত্রের এই বিশেষ দিনে নিজেদেরকে একটু হলেও রঙিন করার চেষ্টায় ব্যস্ত, সেইসময় আমরা অন্যদের কষ্টগুলোতে জল ঢেলে আত্রেয়ীর জলে মিশিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। তাদের হাসিগুলোকে আরও একটু রঙিন করার চেষ্টা করেছি এইমাত্র। জেলার তরুণ প্রজন্মের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকেই।

এবিষয়ে শিক্ষক ও গবেষক কৌশিক বিশ্বাস জানান, ” সময় বদলাচ্ছে, তার সাথে সাথে তালমিলিয়ে ভাবনা চিন্তারও বদল ঘটছে। আর এটাই দরকার। তাঁর মতে, নিজেরা রঙিন তখনই হওয়া যায় যখন আশেপাশে আর পাঁচটা মানুষ রঙিন ভবে দিন কাটাতে পারে। তরুণ প্রজন্মের এমন অভিনব উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন কৌশিকবাবু। তিনি চান, আগামীদিনে এমন ধরনের ভাবনার সঞ্চার আরও বেশি বেশি হোক।
সবমিলিয়ে এদিন এক অন্যরকম অবহ তৈরি হয় ঐ এলাকায়। সবশেষে মুখ ভর্তি হাসি আর গাল-কপাল রঙিন করে এক অন্যরকমের অনুভূতি নিয়ে বাড়ি ফেরে ওরা সবাই।

এছাড়াও চেক করুন

তৃণমূল কংগ্রেস কে তিনি “ভীতু” বলে কটাক্ষ ভারতী ঘোষের

কার্তিক গুহ, পশ্চিম মেদিনীপুর: “কেশপুরে তৃণমূল আমাদের ভয় পেয়েছে। তাই আমাদের আটকানোর জন্য সর্বতোভাবে চেষ্টা …

Leave a Reply

Your email address will not be published.