Breaking News
Home >> Breaking News >> শেষ পর্যন্ত কি করতে চলেছেন শুভ্রাংশু রায় ?

শেষ পর্যন্ত কি করতে চলেছেন শুভ্রাংশু রায় ?

অনুপম সিংহরায় : সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বোধ হয় এই প্রশ্নটার উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছেন, সেইদিন থেকে, যেদিন তৃণমূল কংগ্রেসের এক সময়কার সেকেন্ড ইন কম্যান্ড, মুকুল রায় তৃণমূল ছেড়ে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন। আর সেই একই দিন থেকে শুরু হয়েছে বীজপুরের তৃণমূল বিধায়ক তথা মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু রায়ের নিজের দলের প্রতি আনুগত্য থাকার অগ্নিপরীক্ষা দেওয়া।

একদিন যেই ছেলেটা বীজপুরের রাস্তায় বেরোলে একটাই আওয়াজ চারিদিকে শোনা যেত, ” বীজপুরের উন্নয়নের কান্ডারী, শুভ্রাংশু রায় জিন্দাবাদ”। দলমত নির্বিশেষে সে ছিল সমগ্র বীজপুর বাসির নয়নের মনি। কিন্তু বকলমে যেই মাত্র না তার পিতা মুকুল রায় তার পুরোনো দলের প্রতি আনুগত্য ধরে রাখতে পারলেন না, ঠিক সেই মুহূর্ত থেকে কখনও প্রকাশ্যে, কখনও বা বীজপুরের আনাচে কানাচে শুধু একটাই আলোচ্য বিষয়, ” শুভ্রাংশুও কি তাহলে বিজেপিতে যোগ দেবে?”

সত্যি ছেলেটা পড়ে গিয়েছিল বিরাট যাঁতাকলে। মঞ্চের উপর বসে তাকে দিনের পর দিন তার বাবার নামে নানা কুকথা শুনতে হয়েছিল। আর আমাদের দেশের রাজনীতিতে ব্যাক্তিগত আক্রমন নতুন কিছু নয় । দিনের পর দিন যাকে তার দলেরই সহকর্মীরা বাজে ভাষায় আক্রমণ করে গেছে, দিনের শেষে সেই মানুষটা তো তার পিতা। তাও কিন্তু ছেলেটা নিজের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এতটুকু নড়েনি। মুখে শুধু একটাই কথা, ” আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে দেখে রাজনীতিতে এসেছিলাম, আমি যতদিন রাজনীতিতে থাকবো, তৃণমূল দলটাই করব।” এবং হ্যাঁ তিনি কিন্তু আজকের দিন পর্যন্ত সেটাই করে চলেছেন। উল্টে সে দেখল এতদিন যে সমস্ত নেতারা তার কাছ থেকে বিভিন্ন ভাবে তৃণমূল দলে থাকার আনুগত্যের প্রমান খোঁজার চেষ্টা করছিলেন, তারাই শেষ পর্যন্ত দলের প্রতি অনুগত থাকতে পারলেন না।

মুকুল রায়কেও এতদিন যতবার প্রশ্ন করা হয়েছে, ” শুভ্রাংশু রায় কি বিজেপিতে যোগ দেবে?” তিনি বলেছিলেন, ” শুভ্রাংশু সাবালক। আমি তার ব্যাপারে কিছু বলবনা। ওর যে দল ভালো লাগবে , সেই দল করবে। ভারতীয় রাজনীতিতে এরকম অনেক উদাহরণ আছে, পিতা-পুত্র আলাদা রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত।”

প্রকাশ্যে বাবার এহেন কথায় শুভ্রাংশু বোধ হয় একটু সাহসও পেতেন। অন্তত বাবা হিসেবে মুকুল রায় তার সাথে আছে। তিনি কখনই তার ইচ্ছে অনিচ্ছার কথা নিয়ে প্রকাশ্যে খিল্লি করার সুযোগ করে দেন নি।

কিন্তু যেই না ১৯শে এপ্রিল মুকুল রায়, হাসতে হাসতে সাংবাদিকদের সামনে বলে বসলেন, ” শুভ্রাংশু রায়ের বিজেপিতে যোগদান এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা”, তখন থেকে সারা রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়ে গেল কালবৈশাখীর ঝড়। কিন্তু কেন এমন কথা প্রকাশ্যে বলতে গেলেন বাবা মুকুল রায়, যেখানে এত কিছু সহ্য করার পরেও ছেলে শুভ্রাংশু রায়ের তৃণমূল দলে টিকে থাকার একটা মনোবল তৈরি হয়েছিল, এবং ধীরে ধীরে তৃণমূল কর্মী সমর্থকরাও বিশ্বাস করতে শুরু করে দিয়েছিল, ” আর যে নেতাই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাক না কেন, অন্তত শুভ্রাংশু রায় যাবেনা।” আবার শুরু হয়ে গেল জল্পনা, আবার কি তবে সীতার মতো অগ্নিপরীক্ষা দিতে হবে?। আবার কি তবে মানুষ অবিশ্বাস করতে শুরু করবে, তাদের নয়নের মনিকে? এটা তো রীতিমতো অপমান। হ্যাঁ চরম অপমান। যার প্রতিফলন ঘটল শুভ্রাংশুর করা ফেসবুক পোস্টে।

এই পোস্ট করার পরে, কখনও তৃণমূল সমর্থকরা বলেছে” দাদা আমরা তোমার পাশে আছি। আবার কখনও বিজেপি সমর্থকরা বলেছে” দাদা বিজেপিতে তোমাকে স্বাগত, আমরা তোমার পাশে আছি।” এর থেকে বোঝা যাচ্ছে বীজপুরের মাটিতে দলমত নির্বিশেষে শুভ্রাংশু রায়ের জনপ্রিয়তা এখনও তুঙ্গে। কারণ সব দলের সমর্থকরাই চাইছে শুভ্রাংশু রায় তাদের দলে থেকে বীজপুরে নেতৃত্ব দিক।

কিন্তু শুভ্রাংশু রায় কি চাইছে? সেটার উত্তর তো তিনি বারবার দিয়েছেন। তবে এবার কিন্তু বাবার দেওয়া বাইটের, পাল্টা চাল তিনিও দিলেন। বললেন হ্যাঁ , আমি বিজেপিতে যাব, তবে একটা শর্তে, সেটা হল বীজপুরে রেলের কোচ ফ্যাক্টরি হতে হবে, এবং সেখানে ৩০ শতাংশ ছেলে মেয়ের চাকরি দিতে হবে বীজপুরের থেকে।” এটা শুভ্রাংশু রায় কেন সবাই ভালো মতোই জানে, এই সব শর্ত অলীক কল্পনা ছাড়া আর কিছুই না। ” তাহলে কেন প্রচার করা হচ্ছে, “শুভ্রাংশু রায় যোগ দিতে চলেছেন বিজেপিতে”। এর পিছনে কি কোনো রাজনৈতিক অভিসন্ধি আছে, নাকি শুভ্রাংশু রায়ের বিজেপিতে যোগ শুধু সময়ের অপেক্ষা। যেটাই হবে, তার জবাব তো সময় দেবে। কারণ রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু হয়না। তাই আমরাও শেষের অপেক্ষায় না থেকে শুরুর অপেক্ষাতেই থাকি। সেটা কারোর ক্ষেত্রে শেষের শুরু বা কারোর ক্ষেত্রে নতুন করে শুরু হতে পারে ।

এছাড়াও চেক করুন

শিলিগুড়ির ফাঁসিদেওয়ায় দুটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ,আহত ২

বিশ্বজিৎ সরকার,স্টিংনিউজ করেসপনডেন্ট,দার্জিলিংঃ বুধবার শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের অন্তর্গত ফাঁসিদেওয়া ব্লকের লিচুবাগান এলাকায় বাঁশ বোঝাই ও …

Leave a Reply

Your email address will not be published.