Breaking News
Home >> Breaking News >> বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার তীব্র নিন্দায় হাওড়া জেলার বিদ্বজ্জনেরা

বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার তীব্র নিন্দায় হাওড়া জেলার বিদ্বজ্জনেরা

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়া: বিদ্যাসাগর কলেজের ভিতর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার প্রতিবাদ করল ভাগীরথীর পশ্চিম পাড়ের শহর হাওড়া। ছিছিক্কার করেছে কলেজ পড়ুয়া থেকে পথচলতি মানুষ। গভীর আঘাত পেয়েছেন বিদ্বজনেরা।

হাওড়ার বিজয়কৃষ্ণ গার্লস কলেজের ছাত্রী তণুশ্রী। পড়াশোনার পাশাপাশি গান, আবৃত্তি সমস্তটা নিয়ে সময় পার করেন। মঙ্গলবার যখন খবরে ব্রেকিং ভেসে ওঠে চমকে যায় তণুশ্রীও। ওর কথায়, এমনটা এই বাংলায় ঘটবে ভাবতে পারছি না। আমাদের সম্মান তো রবিঠাকুর, বিদ্যাসাগর মহাশয়দের নিয়ে। রাজনীতির জন্য এমনটা এই শহরে ঘটবে মানতে পারছি না। ধিক্কার জানাবার ভাষা নেই। টিভিতে গান করেন গায়ক স্নেহাশিস সরকার। প্রচণ্ড ব্যস্ততার মাঝে উনি জানান, বিদ্যাসাগর মহাশয় কে নিয়ে যেটা ঘটেছে বড্ড খারাপ লাগছে। এমনটা কখনই গণ্য নয়। বিসিএ পড়ছে বাগনানের আলাপন। বিদ্যাসাগর মহাশয় ধ্যানজ্ঞান। মূর্তি ভাঙার বিষয়টি আঘাত দিয়েছে। ওর কথায়, ‘যার শেখানো ভাষাতে কথা বলি তাঁর মূর্তিই আজ ধূলিসাৎ। এটাতো বাংলা তথা দেশের লজ্জা। যারা বলেন সোনার বাংলা বা সোনার ভারত দেব তাদের বলি আগে সোনার মানুষ দের যথার্থ সম্মান দিন’।

আবৃত্তির শিক্ষিকা লতা জানা’র কথায়, বিদ্যাসাগর মহাশয়ের প্রতি যে আচরণ করা হয়েছে তা এককথায় নক্কারজনক ঘটনা। রাজনীতি হোক বা অরাজনৈতিক কোনভাবেই মনীষীদের প্রতি এমন অভদ্রতা কাম্য নয়। এমন ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের প্রতি সবরকম আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। শিক্ষাটাকে শিক্ষার জায়গায় রাখা প্রয়োজন। বর্ণপরিচয় দিয়ে হাতেখড়ি অথচ সেই মানুষের মূর্তি ভেঙে দেওয়া হল’। অ্যামাজনে চাকরি করা সহেলী খাঁ জানায়, ‘ক্ষমতায় আসার জন্য বলপ্রয়োগ না করলেও হবে। ভালো কাজ করলে মানুষ ক্ষমতায় নিয়ে আসবে। তারজন্য কোন স্ট্রাটেজি করতে হবে না। বিদ্যাসাগর মহাশয় ছোটবেলার বর্ণপরিচয়ের মতো আজও আবেগ। এমনটা যারা করেছে তাদের ক্ষমা করা যায় না। তীব্র ধিক্কার জানাই’।

কবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত লিখেছেন, বিদ্যার সাগর তুমি বিখ্যাত ভারতে। করুণার সিন্ধু তুমি, সেই জানে মনে, দীন যে দীনের বন্ধু! বিদ্যাসাগর মহাশয়ের লেখার প্রতিটি শব্দ একশো ভাগ হৃদয়মাখা। একটা দেশে মূর্তি স্বাধীনতা নেই। বাক স্বাধীনতা সেসবের ধার ধারে না। রাজত্ব কায়েমে মূর্তি ভেঙে ক্ষমতা ধরে রাখাটাই রাজার সেনাপতির বড় কাজ। আরে মহাশয়, ওঁনার সিকিভাগও আপনারা নন। তবুও ফিরে আসার বাণী ছড়িয়ে রাজত্বের বকলমা চান। এখন তো সমাজে মানুষের নিরাপত্তা নেই। সেখানে মনীষীদের মূর্তি কিভাবে নিরাপদে থাকবে। রোদে প্রচণ্ড ক্ষোভের মাঝে জানিয়ে গেলেন এক নিত্যযাত্রী।

বৈদ্যনাথ পুর হাইস্কুলের ইংরেজির শিক্ষিকা সুস্মিতা রায় জানান, ‘বিদ্যাসাগর মহাশয়ের বর্ণপরিচয় আমরা ছোট থেকে পড়েছি। তাঁর আদর্শ নিয়ে বড় হয়েছি। যে ঘটনা টা ঘটেছে তা দেখে মর্মাহত। ভাবছি আমরা পরের প্রজন্মের জন্য কি রেখে যাব। যারা এমন কান্ড ঘটালো তাদের মধ্যে কি মানবিকতা ও নৈতিকতার চিহ্নটুকু নেই!

বাঁটুল মহাকালী উচ্চ বিদ্যালয়ের বাংলার শিক্ষিকা অজন্তা অধিকারীর কথায়, ‘ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর আমাদের কাছে এক দেবতার নাম। তাঁর মূর্তি ভেঙে ফেললো। এটা শুনে খুব কষ্ট পেয়েছি। রাজনৈতিক কর্দমাক্ত পাঁকে এই মহামানবকে না আনলে কি হতো না ! শেষে বলি,ক্ষমা করবেন না ঐ অধমদের। ঈশ্বর আপনি আছেন আমাদের মননে, আজন্মকাল’।

পরিবেশবিদ প্রদীপ রঞ্জন রীত জানান, ‘এমনটা তো আমাদের রাজ্যের সংস্কৃতি নয়। আমাদের পথ চলাটাও মনীষীদের সঙ্গে যুক্ত। সেখানে বিদ্যাসাগরের মতো মনীষীর প্রতি এমন আচরণ হিংস্র মানসিকতার পরিচয়। রাজনীতি থেকে মূল্যবোধ হারিয়ে যাচ্ছে এটা তার চরম নিদর্শন। সমস্ত রাজনৈতিক দলের সচেতন হবার সময় এসেছে’।

এছাড়াও চেক করুন

শিলিগুড়ির ফাঁসিদেওয়ায় দুটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ,আহত ২

বিশ্বজিৎ সরকার,স্টিংনিউজ করেসপনডেন্ট,দার্জিলিংঃ বুধবার শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের অন্তর্গত ফাঁসিদেওয়া ব্লকের লিচুবাগান এলাকায় বাঁশ বোঝাই ও …

Leave a Reply

Your email address will not be published.