Breaking News
Home >> Breaking News >> আমতা ও শ্যামপুরে সন্তর্পণে বিস্তার করছে পার্থেনিয়াম হেলদোল নেই প্রশাসনের

আমতা ও শ্যামপুরে সন্তর্পণে বিস্তার করছে পার্থেনিয়াম হেলদোল নেই প্রশাসনের

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়া: রাজ্য সড়কের দু’পাশে, গ্রাম্য ঢালাই রাস্তার ধারে, গজিয়ে উঠেছে পার্থেনিয়াম গাছ। লম্বায় হাত তিন-চার। ডগে ছোট ছোট সাদা ফুলও ধরেছে। অতি সন্তর্পণে এলাকা বিস্তার করছে। সমস্তটাই চোখের সামনে তবুও হেলদোল নেই প্রশাসনের।

বেশ কয়েক বছর আগে পার্থেনিয়াম জেলায় প্রভাব বিস্তার করেছিল। বিষয়টি কতটা প্রভাব ফেলতে পারে তা নিয়ে সেই সময় আলোচনাও হয়। তারপর যেই কে সেই। এবার তো বড় রাস্তার ধার ছেড়ে একদম গ্রামের ভিতর প্রবেশ করেছে। সাধারণ মানুষের শরীরে অল্প অল্প করে পার্থেনিয়াম-এর বিষবাষ্প ঢুকছে। যদিও এ বিষয় গ্রামবাসীদের মধ্যে নূন্যতম ধারণা নেই বলেই ধারণা সুশীল সমাজের।

আমতা থেকে পাঁচ কিমি দূরে সরপোতা, প্রেমরোড সহ একাধিক এলাকায় গিজগিজ করছে এই গাছ। গাছগুলি যে পার্থেনিয়াম সেটা অনেকে জানেনা। রাস্তার ধারে সাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলছে সদ্য মাধ্যমিক পাশ করা অবিনাশ সাঁতরা ও একাদশ শ্রেণির ছাত্র নীলাম্বর পাল। গাছগুলির পাশে দাঁড়িয়ে থাকাটা কতটা ক্ষতিকর জানা আছে এ প্রশ্নে জানায়, “ছোট ছোট সাদা ফুল ধরেছে দেখতে বেশ ভালো লাগছে। মোবাইলে ছবি তুলছিলাম। কিন্তু এর যে মানবদেহে ক্ষতি করবার এতটা ক্ষমতা রয়েছে সেটা জানা ছিল না। এলাকার গ্রাম্য মানুষজন এসবের কথা শুনেছে হয়তো কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন প্রচার নেই। সচেতনতা শিবির গড়ে তোলা না হলে অগ্যতা দূর কিভাবে হবে।”

আমতা শহরের কলেজমোড় পার করে কলাতলা যাবার আগে রাস্তার ধারে দেখা মিলল। বেশ ধীরেসুস্থে বংশবিস্তার করছে। এমনকি গ্রাম্য ঢালাই রাস্তার ধারে ছেয়ে গিয়েছে পার্থেনিয়াম। গাছগুলি থেকে একশো মিটারের মধ্যে বাসস্থান। এলাকাবাসী সুব্রত মন্ডল জানান, “পার্থেনিয়াম নাম শুনেছি কিন্তু আমাদের ঘরের পাশে জন্ম নেওয়া গাছগুলো যে ওই গাছ তা জানতাম না। আগে জানলে কেটে দিতাম। ঘরে ছোট ছোট বাচ্চারা রয়েছে। ওদের স্বাস্থ্য ক্ষতির আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।” আমতা ছাড়াও শ্যামপুর এলাকাতেও দেখা মিলছে এই গাছের। এলাকাবাসীর কথায়, দক্ষিণ দূর্গাপুর হাটতলা থেকে ঘোষখালি পিচরাস্তার দুপাশে এবং ঘোষখালি থেকে দেউলি রাস্তার ধারেও পার্থেনিয়াম গাছ নিঃশব্দে পরিবার বাড়াচ্ছে। এই গাছ খুব বিষাক্ত। হাঁপানি এলার্জি নানান অসুখ ঘটায়। ফসল উৎপাদন কমিয়ে দেয়। অবিলম্বে এই গাছ নিধন করা দরকার। এছাড়া জয়পুর, সিয়াগড়ি এলাকাতেও এই গাছের দেখা মিলছে।

পার্থেনিয়াম মানুষের জীবনে কতটা ক্ষতি করতে পারে এ বিষয় আমতা রামসদয় কলেজের বোটানি বিভাগের অধ্যাপক সুমন্ত দত্ত জানান, পার্থেনিয়াম গাছ থেকে মানুষের প্রধানত লিভার ও কিডনি আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া রস থেকে চোখের রেটিনা নষ্ট হয়ে যায়। অ্যাজমা হবার মূল দায়িত্ব নেয় এই পার্থেনিয়াম গাছ। এই গাছের বীজগুলো মাটিতে বহু সময় থেকে যায়। যে কারণে কোথাও হলে গাছগুলো কেটে দিতে হয়। এবং বিস্তৃত এলাকায় লক্ষ্য রাখতে হবে কোথাও গাছ জন্মালেই কেটে দিতে হবে নইলে ওখানের বীজ অন্য জায়গায় গিয়ে পড়বে। এভাবে যদি পরপর দু-তিন বছর কেটে দেওয়া হয় তাহলে চতুর্থ বছর আর জন্মাবে না। শিশুদের উপর প্রভাবটা পড়তে পারে বেশি। কারণ এই গাছের পরাগগুলো যে ওড়ে সেগুলো মোটামুটি ৪-৫ ফুট উঁচু দিয়ে ভেসে বেড়ায়। বাচ্চাদের হাইটটা কম যে কারণে বাচ্চাদের অ্যাজমা বেশি হয়।

এ বিষয় আমতা ১নং বিডিও লোকনাথ সরকারকে জিজ্ঞাসা করা হলে উনি জানান, আমরা গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে মিটিং আবার করবো সেখানে পার্থেনিয়াম নিধন করবার জন্য আলোচনা হবে। স্বাস্থ্য সাথী কর্মীদের একটি টিমকে যুক্ত করে দেওয়া হবে। পার্থেনিয়াম গাছগুলোকে স্প্রে করে দেবে যাতে করে মরে যায়। আমাদের কাছে একটা রিপোর্ট এসেছে আমরা দেখছি পার্থেনিয়াম এর ক্রমবর্ধমান সমস্যা নিয়ে কিভাবে ব্যবস্থা নিতে পারি।

বিষাক্ত পার্থেনিয়ামের বাড়বাড়ন্ত এখন থেকে ব্যাবস্থা না নিলে ধীরে ধীরে নিঃশব্দ ঘাতক হয়ে এলাকায় ছড়িয়ে পড়বে। এখন গাছ দেখা যাচ্ছে পরে ফুল ও ফুলের রেণূ বাতাসে সর্বত্র ঘুরে বেড়াবে। যা সমাজে ভয়ঙ্কর রূপ নেবে বলেই মত এলাকাবাসীর।

এছাড়াও চেক করুন

শিলিগুড়ির বিধাননগরে মারতি ভ্যান ও ট্রাকের সংঘর্ষ,আহত তিন

বিশ্বজিৎ সরকার,স্টিংনিউজ করেসপনডেন্ট,দার্জিলিংঃ মঙ্গলবার শিলিগুড়ির মহকুমা পরিষদের অন্তরর্গত ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিধাননগরের মাদাতি এবাকায় মারতি ভ্যান …

Leave a Reply

Your email address will not be published.