Breaking News
Home >> Breaking News >> দেশ-বিদেশের ৬০-৬৫ প্রজাতির ফাইকাস বসিয়ে চমক জয়পুরের প্রণববাবুর

দেশ-বিদেশের ৬০-৬৫ প্রজাতির ফাইকাস বসিয়ে চমক জয়পুরের প্রণববাবুর

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ, হাওড়া: নবম শ্রেণিতে পড়বার সময় একটি পাকুড় গাছ বসানো দিয়ে হাতেখড়ি। সময় যত গড়িয়েছে গাছ বসানোর তাগিদ বাড়তে থেকেছে। নিজেই উদ্যোগী হয়ে গ্রামের পথের পাশে, পুকুর পাড়ে গাছ লাগিয়েছে। তারপর চাকরি জীবনে প্রবেশ। পরিবার, সন্তান সমস্ত সম্পর্কে যুক্ত হলেও মন থেকে গেছে প্রকৃতির মাঝে। চাকরি জীবন থেকে বেরিয়ে এসে নিজেই উদ্যোগ নিয়ে বানিয়েছেন ১ একরের বেশি জমিতে গাছের পরিচর্যা কেন্দ্র। ৫৫বছর বয়সী সেই মানুষটি প্রণব মল্লিক।

গ্রামীণ হাওড়ার জয়পুর গ্রামের বাসিন্দা প্রণব বাবুকে অনেকে চেনে গাছ পাগল বলে। মূলত পাকুড় প্রজাতির গাছ নিয়ে পরিচর্যা করতেই ভালোবাসেন। একসময় স্ত্রী রুবি মল্লিক স্বামীর গাছ নিয়ে চর্চাকে এড়িয়ে গিয়েছিলেন। ‘ফুল হয় না, ফল হয় না এই ধরণের গাছ দিয়ে সাধারণ মানুষের কি উপকার হবে’! বট অশ্বত্থ গাছ লাগিয়ে আদৌ কি কিছু হবে ? এখন বাড়ির সবাই প্রণব বাবুর কাজ দেখে তৃপ্ত। জেলার গাছপ্রেমি মানুষ আসেন বহুমূল্য গাছের সন্ধানে। বনসাই কে নিয়ে রীতিমত নিরক্ষণ করে চলেছেন।

প্রণব বাবুর সকাল থেকে সন্ধ্যা বাগানেই কেটে যায়। ওঁনার কথায়, ‘ভোর পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা অবধি বাগানে থাকতে হয়। বাগানের সমস্ত প্রান্তে বড় হচ্ছে ৬০-৬৫ প্রজাতির গাছ। বেশিরভাগ পাকুর প্রজাতির। রয়েছে আট প্রজাতির বট। পাঁচ প্রজাতির মাইক্রো কারপা। এছাড়াও রয়েছে পাঁচ প্রজাতির ফাইকাস বেঞ্জামিনা। দুই ধরণের প্রেমনা গাছ পাশাপাশি গ্যামলিনা, চেরি বারবাডোজ, সুরিনাম গাছও রয়েছে। দীর্ঘ সময়ের পরিচর্যার শেষে যখন দেশের একাধিক জায়গায় যাবার প্রস্তুতি চলছিল তখনি ধেয়ে আসে বন্যা। ২০১৭ সালের বন্যায় প্রায় এক কোটি তিরিশ লক্ষ টাকার গাছ মারা যায়। সেই ক্ষতি সামাল দেওয়া মুশকিল হয়ে যায় প্রণব বাবুর কাছে।

১৯৮৪ সালে বিএসসি পড়বার সময় টাটা মোটরসে এপেন্ডিস করবার সুযোগ মিলে যায়। কাজে মন না লাগায় ফিরে আসেন। এগারো বছর পর আবারও ডাক পড়ে। টাটা কোম্পানিতে যুক্ত হন। কুড়ি বছর চাকরি করবার পর ছেড়ে দিয়ে চলে আসেন। ২০১৫ সালে নিজেদের এক একরের একটু বেশি জমিতে মাটি ফেলে উঁচু করে শুরু হয় বাগান তৈরি। বনসাই প্রজাতির গাছ নিয়ে শুরু হয় নতুনভাবে চর্চা। ফাইকাস বট প্রজাতির গাছ দু’শ -তিন’শ বছর বেঁচে থাকে এরা। এদের এক সপ্তাহ জল না দিলেও বেঁচে থাকে। যা ফুল-ফল গাছের ক্ষেত্রে হয় না। বাগানে বেশিরভাগ প্রজাতি বিদেশি। জাপান, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, অস্ট্রেলিয়া সহ একাধিক দেশের গাছ রয়েছে। ফাইকাস লিং আইল্যান্ড চিনের গাছ। গাছটির বর্তমান মূল্য ৬০ হাজার টাকা। বয়স ৭বছর। রয়েছে থাইল্যান্ডের কারমোনা মালফিজিয়া। এছাড়া আসামের গাছ প্রেমনাও সযত্নে বড় হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে এতবড় বনসাই উদ্যান আর কোথাও নেই।

প্রণব বাবুর ছোট মেয়ে এগ্রিকালচার নিয়ে ফৈজাবাদ থেকে পড়াশোনা করছে। বাগানে দিনের বেশিরভাগ সময় কেটে যায়। মাঝেমধ্যে স্ত্রীও চলে আসে। বাগানে জল দেওয়ার জন্য রাখা আছে পাম্প। দশ বাই বারো সাইজের ঘরে রাখা আছে বীজ ও গাছের পরিচর্যার সমস্তকিছু। জৈব সার ও মাটি মেশানোর কাজ হচ্ছে। কাজের মাঝেই প্রণব বাবু জানালেন, এখানে সমস্ত গাছ খুঁজে পাবেন। তবে ফলের গাছও আছে। আম, জাম, লিচু, মালবেরি, বেদানা, কলা গাছ সব রয়েছে। স্ট্রবেরি গাছটাও ছিল মরে গেছে। সরকার থেকে তাপমাত্রা নিরোধক ঘর বানিয়ে দিয়েছে। কিন্তু হিউমিনিটি ঠিকঠাক কন্ট্রোল হচ্ছে না।

গাছ নিয়ে এত কাজ করবার সম্মান পেয়েছেন। ২০১৭ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে কৃষক সম্মান পান। সেইসঙ্গে ২৫ হাজার টাকা। আলিপুর হর্টিকালচার প্রদর্শনীতে গিয়েছে প্রণব বাবুর হাতে গড়ে ওঠা একাধিক গাছ। মাইসোর, হায়দ্রাবাদ সহ বিভিন্ন রাজ্যে পৌঁছেছে গাছ। উলুবেড়িয়া এগ্রিকালচার কলেজে সেমিস্টার হিসাবে গাছ নিয়ে ক্লাস নেন। বহু জায়গা থেকে মানুষ ডেকে নিয়ে যান গাছের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য।

বাগান পরিচর্যায় খরচের বহরটাও বেশ লম্বাচওড়া। প্রতিদিন হাজার তিনেক টাকা খরচ। সমস্তটা মিটিয়ে চলা কঠিন। বন্যার সময় তিন হাজার গাছ মারা যায়। সেই ক্ষত আজও শুকায় নি। একসময় কবিতা-গান ও অগ্নিশিখা নাট্য সংস্থা নাটক চর্চা করে আসা প্রণব মল্লিক এখন গাছ পাগল বলে পরিচিত। তিনি বলেন, গাছ বসান ধরিত্রীকে বাঁচান। মনে রাখবেন গাছ সমাজের দুর্দিনের বন্ধু। তবুও আক্ষেপটুকু রয়ে গেছে লোকে বনসাই এর উপকারিতা আজও বুঝতে পারে না। এখনও বলে বনসাই কি ভাতে দিয়ে মাখে না খায়।

এছাড়াও চেক করুন

শিলিগুড়ির বিধাননগরে মারতি ভ্যান ও ট্রাকের সংঘর্ষ,আহত তিন

বিশ্বজিৎ সরকার,স্টিংনিউজ করেসপনডেন্ট,দার্জিলিংঃ মঙ্গলবার শিলিগুড়ির মহকুমা পরিষদের অন্তরর্গত ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিধাননগরের মাদাতি এবাকায় মারতি ভ্যান …

Leave a Reply

Your email address will not be published.