Breaking News
Home >> Breaking News >> রবি ঠাকুরের প্রিয় শান্তিনিকেতনের “কালোর দোকান”

রবি ঠাকুরের প্রিয় শান্তিনিকেতনের “কালোর দোকান”

শান্তিনিকেতনের রতনপল্লীর বেশ ভিতর দিকে অবস্থিত ‘কালোর দোকান’। সকালে এবং রাত্রে নিয়ম করে রোজ এই দোকানে চা বিক্রি হয়। চা বলতে শুধু লিকার চা। আর ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী মাঝে মাঝে লেবু চা। এখানে পাওয়া যায় না বিস্কুট বা চায়ের সঙ্গে খাওয়ার মতো অন্য সামগ্রী। কয়েকটি বেঞ্চ আর টেবিল না থাকলে অবশ্য চায়ের দোকান বলে ঠাওর করা যেতো না। কারণ, সেখানে রয়েছে বসবাস যোগ্য দু’টি ঘর। যদিও সেখানে কেউ বাস করে না। দীর্ঘদিনের পুরনো হলেও ঘরগুলিতে এখনও জীর্ণতার ছাপ পড়েনি। কিন্তু, দু’টি ঘরেই প্রবীণতার নানাবিধ বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। রবি ঠাকুরের প্রিয় এই ‘কালোর দোকান’।

১৯১৮ সালে ‘কালোর দোকান’ যাত্রা শুরু করেছিল শান্তিনিকেতন আশ্রমে। ওই আশ্রমে কবিগুরুর বৈঠকে চা সরবারহ করতেন কালিপদ দলুই ওরফে কালো। রবি ঠাকুরের নির্দেশেই তিনি আশ্রমের মধ্যেই খোলেন চায়ের দোকান। দেশ-বিদেশ থেকে কবিগুরুর কাছে আগত বহু গুণীজনকে তৃপ্তি দিয়েছে এই ‘কালোর চা’। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রামকিঙ্কর বেজ, নন্দলাল বসু প্রমুখেরা ছিলেন কালিপদবাবুর নিয়মিত খদ্দের। ১৯৪০ সালে সস্ত্রীক শান্তিনিকেতনে এসেছিলেন মহাত্মা গান্ধী। সেই সময় আতিথেয়তা রক্ষার্থে জাতির জনককে এই কালোর দোকানের চা খাইয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। সেই সময়ের ছবি এখনও ফ্রেমবন্দী হয়ে রয়েছে ‘কালোর দোকানে’র একটি ঘরে।

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় চালু হওয়ার পর ১৯৫২ সালে আশ্রম থেকে রতনপল্লীতে স্থানান্তরিত হয় ‘কালোর দোকান’। এখন কালিপদবাবু আর ইহলোকে নেই। গুরুদেবের নির্দেশে চালু হওয়া দোকান অবশ্য বন্ধ হয়ে যায়নি। কালিপদবাবুর জ্যেষ্ঠপুত্র মদন মোহন দলুই এখনও পালন করে চলেছেন গুরুদেবের নির্দেশ। তাঁর মুখেই জানা গেল ‘কালোর দোকানে’র ইতিহাস। তাঁর কথায়, “গুরুদেব(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) এবং তাঁর সংস্পর্শে থাকা এমন কেউ নেই যে এই দোকানে আসেননি।” এখন বিক্রি তেমন একটা হয় না। হাতে গোনা কয়েকজন পড়ুয়া আসে। তবু প্রত্যহ সময় করে দোকান খোলেন মদনবাবু। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু প্রবীণ অধ্যাপক নিয়মিত আড্ডা দিতে আসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক প্রাক্তনীরা মাঝে মধ্যে আসেন নস্টালজিয়ার টানে।

ঐতিহ্য বজায় রাখতেই লাভ না হওয়া সত্ত্বেও রোজ দোকান খোলেন মদন মোহন দলুই। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান আচার্য জীবনের প্রারম্ভে চা বিক্রি করে থাকলেও ‘কালোর দোকানে’র বিষয়ে অবগত নন। একইরকমভাবে বোলপুরের অনেকেই জানেন না ‘কালোর দোকানে’র ইতিহাস। সেই কারণেই একপ্রকার লোকসানেই চলে ঐতিহ্যবাহী কালোর দোকান। ক্রেতা এলে চাহিদা অনুযায়ী স্টোভ জ্বালিয়ে চা তৈরি করেন সত্তরোর্ধ মদন মোহন বাবু। তাঁর মতে, “বিশ্বভারতীতে চাকরি করতাম, এখন অবসর নিয়েছি। এই দোকানে সময়টা কেটে যায়। লাভ-লোকসানের হিসেব করি না।” কালিপদ দলুইয়ের চার ছেলের মধ্যে একমাত্র মদনবাবু ছাড়া আর কারোরই এই চায়ের দোকানের প্রতি তেমন আকর্ষণ নেই। একইরকম মনোভাব তাঁদের উত্তরসূরিদের। তাহলে প্রায় শতাব্দী প্রাচীন ‘কালোর দোকানে’র ভবিষ্যৎ কী? কিঞ্চিত হাসি নিয়ে খানিক আক্ষেপের স্বরে মদনবাবু বললেন, “গুরুদেব নেই, তাঁর নোবেলও নেই। আমি যখন থাকবো না, এই দোকানও আর থাকবে না।”

লেখা -সত্যজিত দাস

এছাড়াও চেক করুন

শুক্রবার থেকে বাতিল বর্ধমান হাওড়া লাইনের বহু ট্রেন

স্টিং নিউজঃ থার্ড লাইনের কাজ চলার জন্য শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত বর্ধমান হাওড়া মেন শাখার …

Leave a Reply

Your email address will not be published.