Breaking News
Home >> Breaking News >> শৈশবের হাত থেকে ‘শিশু দিবসে’ বেলুন কেনে চিলড্রেন

শৈশবের হাত থেকে ‘শিশু দিবসে’ বেলুন কেনে চিলড্রেন

ছবি: সৈকত গাঙ্গুলী

কল্যাণ অধিকারী: পাকা মস্তিষ্কের মানুষদের কথায় আজকের শিশুরাই নাকি আগামীদিনের সক্ষম নাগরিক! তাহলে শিশুকে ছোট থকেই পোক্ত করাটা দরকার। ক্যালেন্ডারের ডেট দেখে ও ঐতিহ্যবাহী দিনের কথা মনে করে মনপসন্দ গিফটে সাজিয়ে দিতে হয়। নইলে ফ্যাকাসে হয়ে যাবে সন্তানের শৈশব।

আজ ১৪ তারিখ চিলড্রেন্স ডে। শিশু দিবস বলতে ওঁনাদের একটু গায়ে লাগে। অন্তত ইংরেজি স্কুলে পড়াশুনা করা সন্তানের সামনে বাংলা মাধ্যমের কথা বললে স্ট্যাটাস বদলে যাবে। আজকের দিনটায় স্কুলের অনেক অনুষ্ঠান। হাফ ডে পর ছুটি। তার আগে স্কুল ড্রেস পড়ে ট্রাই লাগিয়ে স্কুল গাড়িতে যাবার সময় রাস্তার ধারে ফুটপাতের শিশুদের দেখেছে। কিন্তু বাড়িতে বলতে নেই। ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে বড়জোর দুটো চকলেট কাঁচের জানালা সরিয়ে ছুঁড়ে দেয়। শিশু মন তো মা-বাবার দাবড়ানি শুনলেও হৃদয় টা তো কুয়াশা ভেজা নরম।

দুপুর দুপুর পরিবারের হাত ধরে শপিং মল বা মোড়ের মাথার বড় মার্কেটের সামনে পৌঁছে যাওয়া। আর সেখানেই অপেক্ষায় শিশু দিবসের আখ্যান। চাইনা আইটেম, রং-বেরঙের বেলুন ফুলিয়ে লাঠিতে বেঁধে বিক্রি করছে শৈশবের খোকা। মা আমাকেও দিতে হবে একটা কিনে। কিসব তোমার ইচ্ছে শুনি। পাপা বলেছে রাতে অফিস ফেরবার সময় ব্রেন কিডস আনবে। না আমার ওটাই চাই। দাঁড়াও আমি এনে দিচ্ছি। মায়ের হাত ঝটকা দিয়ে চাইনা আইটেম প্রায় ছোঁ মেরে ছিনিয়ে নেয় সন্তান।

এই কত দাম রে ব্যাগ থেকে একখান দশ টাকার নোট ধরিয়ে দেয়। টুপি সোয়েটার পড়া সন্তান কে ওই বেলুন বিক্রি করা শৈশবের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নেয়। এমন বেশ কয়েকটি দশ টাকার নোট ওই ছেলেটার পকেট ভরাবে। খেটে আনা পয়সায় মা-বাবার সাথে শৈশবের দিন গুজরান করবে। শিশু দিবসের পাঁচালি ও বোঝে না। শুধু জানে আজকের দিনে পার্ক মলের ধারে শিশুদের মন পসন্দ পসরা নিয়ে দাঁড়ালে বিক্রি ভালো হবে।

অজস্র শৈশব বাকি ৩৬৪ টি দিনের মতো আজকের দিনটিও ধুলো কাদায় লুটিয়ে নীরবে অন্ধকারে খাবি খেতে থাকবে। সমাজের মধ্যে থেকেও ওরা যে অবহেলিত ওদের তো আর চাইলেই ইংরেজি স্কুলে পড়িয়ে ডিজিটাল করে শিক্ষার আলোতে পাঠানো যাবে না। তাহলে ইংরেজি মাধ্যম স্কুল আর বাংলা মাধ্যমের ফারাক টা বদলে যাবে। ফুটপাতে থাকা শিশুদের চকলেট ছুঁড়ে দেবে কিভাবে। কৈশোর থেকেই শৈশবের হাত কড়া করে ফেলেছে। ছোট্ট শরীরে পিঠে বইয়ের ব্যাগ না নিয়ে পরিবারের জোল কাঁধে চাপিয়েছে।

জন্মাবার পর কপালে মায়ের দুধ লেখা থাকলেও শৈশবে মায়ের কোলে মাথা রেখে ঘুমবার অধিকারটুকু যে নেই। তবুও আজ শিশু দিবস (শিশুদের দিন)। পুষ্টি নিয়ে তুষ্টি না হওয়া শিশুদের একরাশ ভালোবাসা প্রেরণ করবার দিন। তবুও পসরা মেলে অপরের সন্তানের জন্য ওরা বেলুন বিক্রি করে নিজেদের পেট ভরায়। এভাবেই হয়তো ভবিষ্যৎ একদিন উজ্জ্বল হবে। দেশ পেলেও পেতে পারে পাবে আবদুল কালামের মতো বিজ্ঞ কোনও নাগরিক।

©-কল্যাণ অধিকারী

এছাড়াও চেক করুন

শুক্রবার থেকে বাতিল বর্ধমান হাওড়া লাইনের বহু ট্রেন

স্টিং নিউজঃ থার্ড লাইনের কাজ চলার জন্য শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত বর্ধমান হাওড়া মেন শাখার …

Leave a Reply

Your email address will not be published.