Breaking News
Home >> Breaking News >> বুদ্ধদেবের শিল্প প্রীতি ছেড়ে বামেদের লাল পতাকায় কৃষক আন্দোলন সিঙ্গুর থেকে শহরের পথে

বুদ্ধদেবের শিল্প প্রীতি ছেড়ে বামেদের লাল পতাকায় কৃষক আন্দোলন সিঙ্গুর থেকে শহরের পথে

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, হাওড়া: ‘কৃষি আমাদের ভিত্তি, শিল্প আমাদের ভবিষ্যৎ’ বামেরা অতীতের স্লোগান কে মোছাপোছা করে সিঙ্গুর থেকে রাজভবন অভিযানে নেমেছে। সঙ্গে নিয়েছে সেই কৃষকদের৷ মূলত ফসলের ন্যায্য মূল্য নিয়ে কৃষকের ক্ষোভকে আন্দোলনের মধ্যে নয়ে এসে রাজ্যে জমি ফিরে পাবার আশায় শেষ লড়াইয়ে নেমেছে বামেরা।

বুধবারের মিছিল যেখানে শেষ করেছিল বৃহস্পতিবার সেখান থেকে শহরমুখি মিছিল এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে বামেরা। এ দিন বেলায় বালি, বেলুড়, ঘুসুড়ি, গোলাবাড়ি থানার পাশ দিয়ে হাওড়া ব্রিজ ধরে মিছিল কলকাতার উদ্দেশ্যে এগিয়ে গিয়েছে। বহু দিন পর লাল পতাকায় মুড়েছে শহর। অসুস্থ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কে বাদ দিয়েই মিছিলে পা মিলিয়েছে বাম কৃষক কর্মী সংগঠন। পশ্চিম মেদিনীপুর, বর্ধমান সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কৃষকদের মিছিলে আনা হয়েছে।

বামেদের কথায়, রাজ্যে ফসলের দাম ঠিকঠাক না পাওয়ায় কৃষক ক্ষোভ ছিল। সিঙ্গুর থেকে মিছিল শুরু হতেই হাজারও কৃষক পা মেলায়। কুইন্টাল পিছু ধানের দাম প্রায় ৬০০টাকা কম মিলছে। চাষি যদি চাষ করে ফসলের দাম না পায়। খাবে কি পড়বে কি ? সরকার কে এসব দেখতে হবে। তাদের ভাতা দিতে হবে। এ দিনের হাওড়া থেকে মিছিলে যোগদান করে এ রাজ্যের নেতাদের একাংশ। ছিলেন দীপক দাশগুপ্ত, শ্রীদীপ ভট্টাচার্য, বিপ্লব মজুমদার সহ দলের অন্যান্য নেতৃত্ব।

প্রসঙ্গত দেশজুড়ে কৃষকদের আন্দোলন ক্রমশ পুঞ্জিভূত হচ্ছে। মাস আটেক আগে নাসিক থেকে মুম্বই এসেছিল কৃষকদের মিছিল। যা প্রভাব ফেলে দেশের কৃষকদের। চলতি বিধানসভা ভোটে কৃষকের কৃষিঋণ মুকুব নিয়ে রাহুল গান্ধীর মতো নেতারা সরব হয়েছে। ‘২০১৯ সালে যদি কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় আসে তাহলে ১০ দিনের মধ্যে ভারতের সমস্ত কৃষকের ঋণ আমরা মুকুব করে দেব’ এ কথা বলতে শোনা গেছে। হঠাতি কৃষক প্রীতি কেন? অনেকে বলতে শুরু করেছে দেশজুড়ে কৃষকদের একটা বড়ো অংশ ফসলের ন্যায্য মূল্য নিয়ে ক্ষিপ্ত। তার উপর কেন্দ্রে সরকারের কৃষিঋণ মুকুব না করাটাও ইন্ধন জুগিয়েছে। চলছে বেশকটি রাজ্যে বিধানসভা ভোট। এই সময় কৃষক আন্দোলন ভোটে প্রতিফলিত হলে পাল্টে যেতে পারে ভোটের হিসাব।

সারা ভারত কৃষক সমিতির পক্ষ থেকে এ দিন দাবি করা হয়, এম এন রেগা প্রকল্পে বছরে ২০০ দিনের কাজ ও ৩৫০ টাকা মজুরি দিতে হবে। ৬০ বছরের উর্ধ্বে সমস্ত গরিবের ন্যূনতম ছয় হাজার টাকা পেনশনের ব্যবস্থা করতে হবে। কেন্দ্র ও রাজ্যের সমস্ত দুর্নীতিগ্রস্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। কৃষক ক্ষেতমজুর পরিবারসহ সব বেকার এর কাজের ব্যবস্থা করতে হবে। সিঙ্গুরের রতনপুর থেকে রাজভবন অবধি বামেদের কৃষক মিছিলে মূখ্য ভূমিকায় ছিলেন হান্নান মোল্লা। কৃষক আন্দোলনকে ভর করে আগামী দিনে মাটি ফিরে পাবার চেষ্টায় বামেরা।

হাওড়া ব্রিজে এপার-ওপার লালা পতাকায় ছেয়ে যাওয়া দেখে পথ চলতি মানুষের কথায় রতন টাটার মতো শিল্পের জনক কে ছেড়ে সেই কৃষক কেই আঁকড়ে ধরতে হলো বামেদের।

এছাড়াও চেক করুন

শুক্রবার থেকে বাতিল বর্ধমান হাওড়া লাইনের বহু ট্রেন

স্টিং নিউজঃ থার্ড লাইনের কাজ চলার জন্য শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত বর্ধমান হাওড়া মেন শাখার …

Leave a Reply

Your email address will not be published.