Breaking News
Home >> Breaking News >> হালিশহরে দুই সংগঠনের ঝামেলায়, ফের গোষ্ঠীদ্বন্দ প্রকাশ্যে

হালিশহরে দুই সংগঠনের ঝামেলায়, ফের গোষ্ঠীদ্বন্দ প্রকাশ্যে

সৌভিক সরকার: ফের খবরের শিরোনামে উঠে আসল বীজপুরের নাম। গত ১ বছর ধরে মুকুল রায় বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই, বীজপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি টালমাটাল অবস্থায় ঘুরপাক খাচ্ছে। মাঝে মাঝেই বীজপুরের মাটিতে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দের খবর প্রকাশ্যে চলে আসছে। যদিও সাময়িক ভাবে উর্দ্ধতন নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে ব্যাপারটা মিটে যাচ্ছে, কিন্তু কিছুদিন পরে আবার সেই একই অবস্হা।

ঠিক এমনটাই ঘটল রবিবার বীজপুরের হালিশহর স্টেশন রোড সংলগ্ন এলাকায়। আগামী ১৬ থেকে ২৫শে ডিসেম্বর হালিশহর “রামধনু” সংস্থার উদ্যোগে একটি আন্তর্জাতিক নাট্য উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। সেই নাট্য উৎসবের অগ্রীম টিকিট দেওয়ার জন্য একটি কাউন্টার ও কিছু ব্যানার লাগিয়ে প্রচার চালানো হচ্ছিল রামধনু সংস্থার পক্ষ থেকে। রামধনুর কর্ণধার সুদীপ্ত দাসের অভিযোগ,” আমাদের এই নাট্য উৎসব বিগত চার বছর ধরে চলছে, এবারেও সেই ভাবে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। রবিবার সেই নাট্য উৎসবের টিকিট দেওয়ার যে কাউন্টার করা হয়েছিল, সেটা এবং উৎসবের বেশ কিছু ব্যানার হঠাৎ করে কিছু স্থানীয় ছেলেরা এসে ভাঙচুর করে এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে, এমনকি নাট্য উৎসব বন্ধ করার হুমকিও দেওয়া হয়। আমরা কয়েকজনের নামে থানায় অভিযোগ জানিয়েছি। এবং এর বিরুদ্ধে আমরা একটা মিলিত প্রতিবাদে সরব হব। আমার মনে হয় এই ছেলেরা সব বিজেপি নেতা মুকুল রায় আশ্রিত, যারা সমগ্র রাজ্যের মতো বীজপুরকেও অশান্ত করতে চাইছে।”

অন্যদিকে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের বক্তব্য, ” এদিন সকালে “অঙ্কুর” নামে একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি বস্ত্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। এবং এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন, হালিশহর পুরসভার পুরপ্রধান অংশুমান রায়, বীজপুরের বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়  সহ অন্যান্য বিশিষ্ট মানুষজন। এদিন অনুষ্ঠান চলার সময় হঠাৎ করে রাস্তায় লাগানো কিছু মাইকের যান্ত্রিক গোলযোগ দেখা দিলে, আমাদের ছেলেরা সেটি ঠিক করতে গেলে, “রামধনুর” সামনে কিছু ছেলেরা মিলে আমাদের কিছু ছেলেদের বেধড়ক মারধোর করে। ওরাই গায়ে পরে আমাদের ছেলেদেরকে মারধোর করে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেল রামধনুর কিছু ব্যানার ফ্লেক্স ছেঁড়া অবস্থায় রাস্তায় পরে আছে। এর থেকে স্পষ্ট এলাকায় একটা উত্তেজনা হয়েছিল। কিন্তু ঘটনার বিষয়ে একে অপরের দিকে আঙুল ওঠাচ্ছে।এবং দুপক্ষই যে তৃণমূল সমর্থক সে বিষয়টা স্পষ্ট। যদিও রামধনুর কর্ণধার সুদীপ্ত দাস জানিয়েছেন, এগুলো মুকুল রায় আশ্রিত ছেলেদের কাজ। অন্যদিকে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা আবার বলছে, ” এদিন তাদের যে অনুষ্ঠান হচ্ছিল তার মুখ্য অতিথি ছিল পুরপ্রধান ও বিধায়ক , যারা দুজনেই কিনা আবার তৃণমূল দলের কর্মী।”

ঘটনা যাই হোকনা কেন, বর্তমানে বীজপুরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যে একটা টালমাটাল অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে সেটা মানুষের কাছে স্পষ্ট। এবং সেটা যে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো ঘটনার মাধ্যমে জনসমক্ষে প্রকাশ পাচ্ছে, সেটা বলার কোনো অবকাশ রাখেনা। যদিও এই ব্যাপারে বিধায়কের বক্তব্য জানার জন্য ওনার সাথে যোগাযোগ করা হলে, তার সাথে যোগাযোগ সম্ভব হয়ে ওঠেনি। অন্যদিকে হালিশহর পুরসভার পুরপ্রধান অংশুমান রায়ের বক্তব্য,” এটা কোনো গোষ্ঠীদ্বন্দের ঘটনা নয়, আমার কাছে যেটুকু খবর আছে রামধনু এবং অঙ্কুর নামে দুটি সংগঠনের ছেলেদের মধ্যে একটা ঝামেলা হয়। আমি সাথে সাথে থানায় যোগাযোগ করে বলি, আপনারা আপনাদের মত করে কোনো দল না দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেন।”

এছাড়াও চেক করুন

ব্লক সভাপতির অনুগামীর বাড়িতে বোম ও গুলি ছোড়ার অভিযোগ দিনহাটার বিধায়ক পন্থীদের বিরুদ্ধে

মনিরুল হক, কোচবিহারঃ ব্লক সভাপতির অনুগামীর বাড়িতে বোম ও গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠল দিনহাটার বিধায়ক …

Leave a Reply

Your email address will not be published.