Breaking News
Home >> Breaking News >> মন্দির ও ধর্মীয় মেরুকরণ ছাড়াও আছে একটা ভারত যেটা ভুলে গিয়েছিল বিজেপি

মন্দির ও ধর্মীয় মেরুকরণ ছাড়াও আছে একটা ভারত যেটা ভুলে গিয়েছিল বিজেপি

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্টঃ রাম মন্দির ও ধর্মীয় মেরুকরণ এই দুইয়ের বাইরে একটা আস্ত দেশ আছে সেটা ভুলতে বসেছিল বিজেপি। পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের ফলাফল পদ্ম শিবিরে মাতনের সুর এনে দিয়েছে। দেওয়ালে পিঠ ঠিকিয়েছে পাপ্পুর লড়াকু ব্যাটিং। বছর ঘুরলেই মহারণ তার আগে দেশের কথা, কৃষকের কথা না বুঝলে হালে পানি মিলবে কি আদৌ!

দেশ চায় বিকাশ। কৃষিতে ঋণ মকুব। নাগালে থাকুক সারের দাম। ব্যাবসায় সরলীকরণ। বেকারত্বের বোঝা কমুক। পেট্রোল-ডিজেল ও গ্যাসের দাম সাধ্যের মধ্যে। সহিষ্ণুতা থাকুক বজায়। কিন্তু কোথায় কি? পৌনে পাঁচ বছরের রাজত্বে দেশের মানুষ কতটা পেয়েছে। হিসাব কষতে বসে দেখছে সবটা ই আওড়ানো বুলি! একটা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক বাকিটা প্রশংসা কুড়ানো।

কাশ্মীরে জওয়ানদের উপর নিয়ম করে হামলা চালাচ্ছে পাক সেনা। কৃষি ঋণ নিয়ে দেশজুড়ে কৃষক আন্দোলন গড়ে উঠছে। পায়ে হেঁটে চলা কৃষক আন্দোলন আছড়ে পড়ছে বাণিজ্য নগরীতে। গরীবকে দেওয়া গ্যাসে হাজার টাকার সিলিন্ডার ভরে দু’টাকা কেজি চাল ফুটিয়ে খাচ্ছে। সর্বস্ব দিয়ে পিঁয়াজ বসিয়ে খরচের টাকাটাও উঠছে না। কোটি কোটি টাকা ব্যাঙ্ক ঋণ নিয়ে মালিয়া, নীরব মোদী মতো ব্যাবসায়ী দেশ ছাড়া। কেবলমাত্র দেশজুড়ে মন্দির ও ধর্ম নিয়ে আন্দোলন জারি থাকছে।

পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোটে একটা প্রধান অংশ ছিল দেহাতি। বাথরুম ব্যাবহার জানে না। প্রকাশ্য স্থানে মলমূত্র ত্যাগ করা অভ্যাস। পুণ্যতা অর্জনে মাথায় বুচকি বেঁধে এখনও গঙ্গাসাগর এবং কুম্ভে পাড়ি জমায়। ওদের কাছে মন্দির-মসজিদ বড় কথা নয়। দু মুঠো ভাত আর কৃষি সহায়ক মূল্য আশা করে। যে কারণে একটা বড় অংশের ভোট কংগ্রেসে গিয়েছে।

এটা রাহুল গান্ধীর সাফল্য কতটা তা আলোচ্য বিষয়। এক সময় কংগ্রেসের দুর্নীতি থেকে পরিত্রাণ পেতে বিজেপিকে উজাড় করে ভোট দিয়েছে। এবার সেই বিজেপিকে সরিয়ে ভোট পড়েছে কংগ্রেসের ঝুলিতে। এর আরও একটা কারণ বিশেষ করে রাজস্থান ও ছত্তিসগড় জুড়ে। রাজস্থানে পনেরো বছর ধরে ক্ষমতায় বিজেপি। পানীয় জলের সমস্যা সেই তিমিরে। এছাড়া উট বিক্রি নিয়ে এলাকায় গন্ডগোল। দেহাতি মানুষের চাষের দাম না মেলা। অন্যদিকে ছত্তিসগড় আজও মাওবাদীদের সদর দফতর। এলাকার উন্নয়নে হাত লাগাতে এখনও সরকারের আড়ষ্টতা ভাঙেনি।

দেশ চায় মন্দির-মসজিদ মোদ্দা সরিয়ে, গরুর মাংসের কথা ভুলে, বিজ্ঞ মানুষ দের মাওবাদী না সাজিয়ে, বেকারত্বের হিসাব চাপা না রেখে মুক্ত ভারত গড়ে তুলতে হবে। যেখানে কৃষক কে ঋণ মকুব ও ফসলের ন্যায্য মূল্যের জন্য পায়ে হেঁটে হাজার ক্রোশ পাড়ি দিতে হবে না। হাজার টাকার গ্যাসে দু টাকার চাল ফোটাতে হবে না। ব্যাঙ্কে একাউন্ট খুলতে সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হবে না। আদিবাসীদের সমাজ বেচে থাকবে রক্ষা পাবে সবুজ। গরু রক্ষার পাশাপাশি বাকি পশুদের বিলুপ্তি রক্ষা করতে হবে। ভোট আপনা আপনি ঝুলিতে চলে আসবে।

এছাড়াও চেক করুন

মুখ্যমন্ত্রীর পাঠানো নতুন বছরের শুভেচ্ছা বার্তায় আপ্লুত দিনহাটার খুদে পড়ুয়ারা

মনিরুল হক, কোচবিহারঃ আচমকা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা বার্তার চিঠি পেয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.