Breaking News
Home >> Breaking News >> ১৯শে জানুয়ারি ব্রিগেডের সমর্থনে হালিশহর বাগমোড়ে অনুষ্ঠিত হল বিশাল জনসভা

১৯শে জানুয়ারি ব্রিগেডের সমর্থনে হালিশহর বাগমোড়ে অনুষ্ঠিত হল বিশাল জনসভা

সৌভিক সরকার: আগামী ১৯শে জানুয়ারি ব্রিগেড সভার প্রস্তুতি উপলক্ষে হালিশহর বাগমোড় এলাকায় তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের পৌর কর্মচারী ইউনিয়নের তরফ থেকে একটি সভা আয়োজিত হল ১৩ই জানুয়ারি সন্ধ্যেবেলা। এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠনের সর্বভারতীয় সভানেত্রী দোলা সেন, বিধায়ক অর্জুন সিং,কাঁচরাপাড়ার পৌরপ্রধান সুধামা রায়,হালিসহরের উপ পৌরপ্রধান রাজা দত্ত, প্রবীর সরকার সহ তৃণমূল নেতৃত্ব ।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে দোলা সেন জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য প্রশাসন পরিচালনা, সততা এবং দূরদর্শিতায় এক নম্বর। এর কারণ প্রায় এক বছর আগে একুশে জুলাই ২০১৮ সালের সভামঞ্চ থেকে তিনি বলেছিলেন ২০১৯, বিজেপি ফিনিশ। যখন দেশের পাঁচ রাজ্যের ফল বেরোয়নি তখনই তিনি বলেছিলেন দেশে বিভাজনের রাজনীতি হচ্ছে সেই জন্য বিজেপি হটাও দেশ বাঁচাও মোদি হাঁটাও দেশ বাঁচাও। এটা সারা ভারতবর্ষের সময়ের ডাক । আজ বাংলা যা চিন্তা করে, ভারতবর্ষ তা কাল চিন্তা করে।
১৯শে জানুয়ারি সভায় সারা ভারতবর্ষের বিজেপি বিরোধী দলের নেতৃত্ব আসবে। তার মধ্যে থাকবেন অনেক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং অনেক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও। তাই আমাদের কাছে এটা চ্যালেঞ্জ টালা থেকে টালিগঞ্জ, হাওড়া স্টেশন থেকে শিয়ালদহ স্টেশন, সব কিছুই যেন ব্রিগেডগামী মনে হয়। জনস্রোত জনজোয়ারে ভরিয়ে দিতে হবে ব্রিগেড আমাদের। এটা তৃণমূল কংগ্রেসের সম্মান রক্ষার প্রশ্ন ।

নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করে দোলা সেন বলেন, যে দেশে সত্তর শতাংশ মানুষ আজও ঠিকমতো খেতে পায় না সেই দেশের প্রধানমন্ত্রী দুবেলা ফেসিয়াল করে চারবেলা পোশাক পরিবর্তন করে এবং দশ লাখ টাকার স্যুট পরে এবং সেটা পরবর্তী সময়ে নিলামে তোলে। এমন একটা প্রধানমন্ত্রীর জন্য আমাদের মাথা নুইয়ে আসে। ভারতবর্ষ এর আগে এ রকম অপদার্থ প্রধানমন্ত্রী কোনও সময় পাইনি।
শ্রীমতি সেন বিরোধীদের আক্রমণ করতে গিয়ে বিমান বসু, দিলীপ ঘোষ এবং মুকুল রায়ের নাম না করে কটাক্ষ করে বলেন, ওদের কথা মুখে আনলে মুখ অপবিত্র হয়ে যায় এবং মেজাজ খারাপ হয়ে যায় দিন ভালো কাটে না সেই জন্য তাঁদের নাম আমি মুখে আনতে চাই না ।
এরা এখন নতুন উড়তে শিখছে। তাই এদের উদ্দেশ্যে বলব পিপিলিকার ডানা গজায় মরিবার তরে, তাই বলি হাতি ঘোড়া গেল তল মশা বলে কত জল বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমরা সততার প্রতি লিখলে, এদের গায়ে এক ধরনের অ্যালার্জি হয় সেই অ্যালার্জিতে চুলকানি হয়। কিন্তু তাতে আমাদের কিছু করার নেই এটা তাদের বিষয় ।

সংবাদ মাধ্যমের সাথে কথা বলতে গিয়ে দোলা সেন জানান, পলিটিকালি মানুষ বার্তা দিতে শুরু করেছে ২০১৯ বিজেপি ফিনিশ। পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের ফল তারই প্রমাণ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব শক্তিকে এক করে সেই বার্তাটাই শুধুমাত্র রাখবেন ।
এখন একটাই বার্তা বিভাজনের রাজনীতি বন্ধ করার বার্তা। তাই যে যেখানে শক্তিশালী সেখানে তাঁকে সমর্থন দিয়ে সেই আসন জেতাতে হবে ঐক্যবদ্ধভাবে ডাক দেওয়ার সময় ১৯শে জানুয়ারি।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে অর্জুন সিং বলেন, আমরা তো রাজ্যের বিয়াল্লিশের মধ্যে বিয়াল্লিশটি আসনই পাবো। আমাদের লক্ষ্য বিহার ,ওড়িশা ,ঝাড়খণ্ড, পাঞ্জাব চণ্ডীগড় এই সমস্ত জায়গা থেকে তৃণমূলের হাত তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাত শক্ত করা।
মুকুল রায়কে কটাক্ষ করতে গিয়ে শ্রী সিং জয়চন্দ্র এবং মীরজাফরের সাথে তাকে তুলনা করে গদ্দার বলেন তাকে।
মুকুল রায়কে কটাক্ষ করে অর্জুন সিং বলেন, যে এমন লোকের সাথে রাজনীতি করতে গেলেন যাকে চৌকিদার বলছে না মানুষ চোর বলে কটাক্ষ করছে। তাই আপনিও যখন কাঁচরাপাড়ায় আসছেন চোরের মতো মুখ লুকিয়ে আসছেন এবং চোরের মতো মুখ লুকিয়ে যাচ্ছেন। বহু মামলা হয়েছে আরও বহু মামলা হবে আপনাকে কি করে বিজেপি বাঁচায়, কদিন বাঁচায় তাও আমরা দেখব। মানুষকে যেভাবে ধোকা দিয়েছেন মানুষকে যেভাবে প্রতারণা করে টাকা তুলেছেন চাকরি দেওয়ার নাম করে মানুষ আপনাকে ছাড়বে না। আগামী দিনে তা আপনি বুঝতে পারবেন ।
পরিবারতন্ত্র নিয়ে তিনি বলেন, আপনি বলছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি। এটা বলতে আপনার লজ্জা লাগে না এই প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি আপনাকে কোথা থেকে তুলে কোথায় নিয়ে গিয়ে কোথায় নিয়ে গেছিল। আপনাকে ভারতবর্ষে রেলমন্ত্রী পর্যন্ত করেছিল এখন সেই দলকে এমন কথা বলতে মুখে বাধে না।
এই জনসভায় মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।

এছাড়াও চেক করুন

সূবর্নরেখা মহাবিদ্যালয়ে পালিত হল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

স্টিং নিউজ সার্ভিস, ঝাড়গ্রাম:- একুশে ফেব্রুয়ারি জনগণের কাছে একটি গৌরবোজ্জ্বল দিন। এটি শহীদ দিবস ও …

Leave a Reply

Your email address will not be published.