Breaking News
Home >> Breaking News >> মাধ্যমিক দেওয়া হল না দেবজিৎ-এর, হাসপাতালে শুয়ে পা খোয়ানোর চিন্তায় অপর বন্ধু

মাধ্যমিক দেওয়া হল না দেবজিৎ-এর, হাসপাতালে শুয়ে পা খোয়ানোর চিন্তায় অপর বন্ধু

কল্যাণ অধিকারী, স্টিং নিউজ করেসপনডেন্ট, হাওড়া: এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসবার জোরদার প্রস্তুতি নিয়েছিল। প্রথম দিনে থলিয়া ইউনিয়ন হাইস্কুলের সেন্টারে পরীক্ষা দেবার কথা ছিল। সেইমত চলছিল পুরোদমে প্রস্তুতি। তার আগে রবিবার বিকেল সবকিছু তছনছ করে দেয়। দশ চাকা লরি সমস্ত স্বপ্ন ও জীবনকে থামিয়ে দেয়।

মাধ্যমিক পরীক্ষার এ দিন ছিল বাংলা ভাষার পরীক্ষা। শান্তিতে মিটেছে পরীক্ষা। গ্রামের আর পাঁচটা ছেলে-মেয়ে পরীক্ষা দিয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরলেও সাউ বাড়ি জুড়ে শোকের ছায়া। বাড়ির ছোট ছেলে মাধ্যমিক দিয়ে ফিরে আসবার বদলে বাড়িতে চলছে তার শ্রাদ্ধানুষ্ঠান। গৃহকর্ত্রী চোখের জল নিয়ে উঠোনে ঠায় বসে। গৃহকর্তা নিজ হাতে ছেলের কাজ মেটাচ্ছেন।

গ্রামীণ হাওড়ার কলবাঁশ গ্রাম। আমতা থানার অধীনে গ্রামটা সবুজে মোড়া। এলাকায় শিক্ষার হার লোকমুখে পরিচিত। ওই গ্রামের ছেলে দেবজিৎ সকলের কাছে ‘বুড়ো’ নামেই প্রসিদ্ধ। বাবা জোলো সাউ লেদের কাজ করে। বাড়িতে রয়েছে মা ও বড় দাদা। এ বছর খড়িয়প উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবার কথা ছিল। বাড়িতে এসে পৌঁছেছে এডমিড কার্ড। ছেলের পরীক্ষা দেবার জন্য প্রথম দিন কাজে ছুটি করবে বলে জানিয়েছিল। তারপর সব যেন থমকে দিল।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুরে সরস্বতী পুজো দেখতে পাশের গ্রাম খোড়প আশ্রমে যায়। সঙ্গে ছিল আর এক বন্ধু। সাইকেল করে ঠাকুর দেখে ফিরে আসে পাশেই গণেশ পুজো দেখতে। রাস্তা থেকে প্রায় দু ফুট দূরে সাইকেলে বন্ধুকে নিয়ে বসে গণেশ পুজো দেখছিল। বেশ ভিড় ছিল ও বক্সের আওয়াজ মিলিয়ে এলাকা তখন সরগরম। বিকেল ৫টা কুড়ি মিনিট নাগাদ একটি দশ চাকার লরি হাওড়ার দিক থেকে আসছিল। গায়ের কাছ দিয়ে যাবার সময় বেরিয়ে থাকা লরির বডি লেগে পরে যায় দু’জনে। বন্ধুর পায়ের উপর দিয়ে চাকা গেলেও দেবজিৎ এর মাথার উপর দিয়ে চলে যায় লরি।

চোখের সামনে মর্মান্তিক দৃশ্য থমকে দেয় সবকিছু। সম্বিত ফিরে পাবার আগেই চলে যায় লরি। বন্ধ হয়ে যায় বক্স। এলাকার ছেলেরা বাইক নিয়ে লরির পিছু নেবার আগে এ দৃশ্য দেখে ফেলে এক মহিলা। স্কুটি নিয়ে লরির পিছু নেয়। চিৎকার করে লরি থামাতে বলে। কিন্তু কে শোনে কার কথা। দ্রুত গতিতে লরি ছুটলেও ধাঁইপুর এলাকায় পৌঁছাবার আগে টপকে গিয়ে স্কুটি আড়াআড়ি করে দেয়। বাধ্য হয় চালক থামাতে। জয়পুর থানার পুলিশ এসে গাড়ি ও খালাসি কে আটক করে নিয়ে যায়। পরে লরিটি আমতা থানায় নিয়ে আসা হয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চলে আসেন দেবজিৎ এর বাবা। সন্তানের মৃত্যু বাকরুদ্ধ করে দেয় মাকে। দেবজিৎ-এর মৃত্যু হলেও ওর বন্ধুকে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয় আমতা হাসপাতালে। ওখান থেকে পিজিতে। ডান পায়ের উপর দিয়ে লরির চাকা যাওয়ায় একাধিক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলছে চিকিৎসা। সোমবার এলাকার শ্মশানে সকলের প্রিয় বুড়োর দেহ আনতেই আছড়ে পরে সকলে। গ্রামবাসীরা চোখের জলে বিদায় জানায়। মঙ্গলবার ছিল মাধ্যমিক-এর প্রথম পরীক্ষা। দেবজিৎ ছাড়া ই স্কুলের বন্ধুরা গিয়েছে পরীক্ষা দিতে। পরীক্ষা শেষে হাসিমুখে বাড়ি ফিরেছে।

এ দিন স্কুলের স্যর ও এলাকার বহু মানুষ এসেছিল সাউ বাড়িতে৷ শান্তনা দিয়ে ফিরেও গিয়েছে। সাউ বাড়ি জুড়ে রয়ে গেছে ছেলের স্মৃতি চিহ্ন। মায়ের মুখে একটাই কথা, ও যে বাংলা ভাষা কে ভালোবাসতো। আজ ওকে ছাড়াই হয়ে গেল মাধ্যমিক পরীক্ষা। আর লেদে কাজ করা বাবা মন্ত্রপাঠের মধ্য দিয়ে ছেলের ক্রিয়াকর্ম মেটাচ্ছেন।

এছাড়াও চেক করুন

সূবর্নরেখা মহাবিদ্যালয়ে পালিত হল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

স্টিং নিউজ সার্ভিস, ঝাড়গ্রাম:- একুশে ফেব্রুয়ারি জনগণের কাছে একটি গৌরবোজ্জ্বল দিন। এটি শহীদ দিবস ও …

Leave a Reply

Your email address will not be published.